Bhalukanews.com

অবশেষে পুরনো নামেই ফিরছে ইসি

অনলাইন ডেস্ক: প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার হতো ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ নামে। চার বছর আগে সদ্য বিদায়ী কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে রাখে ‘নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ’।  কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন সেটি বদলে  আবার পুরোনো নামই (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) ব্যবহার করছেন।

ইসি সূত্র জানায়, মাঠ পর্যায়েও যেন কমিশনের একই নাম এবং ঠিকানা ব্যবহার করা হয় আনু্ষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে।

বুধবার ইসির সহকারী সচিব মো. লুৎফুল কবীর সরকার স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধিশাখা, শাখা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর বিভিন্ন চিঠিপত্রে কমিশনের নাম-ঠিকানা এবং ওয়েব এড্রেস লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাতন্ত্র ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য একই ধরনের নাম ঠিকানা ব্যবহার করা সমীচীন।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধিশাখা, শাখা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে চিঠিপত্রে কমিশনের নাম-ঠিকানা- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা এবং ওয়েব এড্রেস- www.ecs.gov.bd লেখার জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, এখন থেকে আমরা ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ নামটাই ব্যবহার করব। আমাদের সব কাগজপত্রে এটাই লিখছি। নাম নিয়ে এখন কোনো ভিন্নমত নেই।

ইসি সচিব জানান, সংবিধানেও বলা রয়েছে -বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে। দেশও একটি, নির্বাচন কমিশনও একটি। এ জন্য এর নাম ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ হবে।

সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের  নাম নিয়ে আমাদের  কিছু ঝামেলা ছিল । কমিশন সচিবালয় এটি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এখন থেকে আগের নামে (বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন) সব কিছু লেখা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লেখা হলেও বিগত কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসির সময়ে নির্বাচন কমিশনাররা একেক জন একেক নাম লিখতেন। যা নিয়ে সমালোচনাও হয় বিভিন্ন মহলে।

ইসি সূত্র জানায়, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন হিসেবে পরিচিত হলেও রকিব কমিশন দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পর থেকে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ তার ভিজিটিং কার্ডে লিখেছিলেন- ‘ইলেকশন কমিশন ফর বাংলাদেশ; নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক লিখেছিলেন- ‘নির্বাচন কমিশন’; নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ও জাবেদ আলী লিখেছিলেন- ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আর সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কার্ডে নামের পরেই চিফ ইলেকশন কমিশনার, বাংলাদেশ লেখা হয়েছিল।

এছাড়াও ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত নবম জাতীয় সংসদের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ’।

তবে কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.ecs.gov.bd) পরিচিতিতে বলা হয়েছে ‘বাংলাদশ নির্বাচন কমিশন। সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও এম সাখাওয়াত হোসেনের ভিজিটিং কার্ডেও তাই লেখা ছিল।

সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে ‘বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে’ বলা রয়েছে। ইসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ওই অনুচ্ছেদের আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।

*

*

Top