Bhalukanews.com

ঝিনাইগাতীতে আগাম পাহাড়ী ঢলের ফলাফল: ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নীচে

Pic- Plabito Khet

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী ঃ অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির কাচা ও আধাপাকা বোরো ধান। প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জানাগেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মহারশি, সোমেশ্বরী, কালঘোষা, মালিঝি নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। উপজেলার সদর বাজারের পানি নেমে গেলেও নি¤œাঞ্চলের গ্রামগুলো এখনও প্লাবিত রয়েছে। পানিবন্দী গ্রাম ও তলিয়ে যাওয়া বোরো এলাকাগুলো হচ্ছে, কান্দুলী, কোচনীপাড়া, বাগেরভিটা, মারুয়াপাড়া, খাটুয়াপাড়া, হাসলিগাঁও, বানিয়াপাড়া, বাতিয়াপাড়া, রাঙ্গামাটিয়া, দাড়িয়ারপাড়, কালিনগর, বালিয়া গাঁও, জরাকুড়া, পাইকুড়া, সুরিহাড়া, মাটিয়াপাড়া, পাগলারমুখ, বনগাঁও চতল প্রভৃতি গ্রাম। ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে শতশত একর জমির কাচা-পাকা বোরো ধানের ক্ষতি সাধিত হয়। ৫টি গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে বলে জানান। মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা জানান, তাঁর ইউনিয়নের শতশত একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৮/১০টি গ্রামের শতশত মানুষ। ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন বলেন, তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকার বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ। গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাঁর ইউনিয়নে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হাতিবান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাঁর ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক বোরো ধানের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। দরিকালিনগর গ্রামের কৃষক মো. উকিল মিয়া, আমেজ উদ্দিন, সিরাজুলসহ অনেকেই জানান, তাদের পাকা বোরো ধান পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনেয়ার হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা, ইউএনও এ.জেড.এম শরীফ হোসেন পরিদর্শন করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. কোরবান আলী বলেন, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান দেয়া হবে।

*

*

Top