Bhalukanews.com

যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের এক হত্যা মামলার আপিলের রায়ের সময় যাবজ্জীবন কারাদ- মানে আমৃত্যু কারাবাস বলে আপিল বিভাগের মন্তব্য করা রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলার আপিলের রায়ের সময় আপিল বিভাগ এমন মন্তব্য করেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তবে ওইদিন অন্যান্য মামলার আসামির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে কি-না সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, সকলের ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য হবে কি-না, সেটি পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস। তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি।

আমি বলেছি, দ-বিধির ৫৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ-ের অর্থ ৩০ বছর। এছাড়া যাবজ্জীবনের আসামিরা কারাগারে রেয়াত পেয়ে দ- আরও কমে আসে। যদি আমৃত্যুই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের রেয়াতের কি হবে? আমি আরও বলেছি, প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য যেন মূল রায়ে না থাকে।

তবে যদি থাকে, তাহলে সব আসামির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সাভারের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদ- মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন আপিল বিভাগ। তবে আদেশে বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাদ-। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর।

২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ২০০৩ সালে তিনজনকে মৃত্যুদ- দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্টে আপিলের পর বিচারিক আদালতের দ- বহাল থাকে। আপিলের পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আসামিদের মৃত্যুদ- মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন সর্বোচ্চ আদালত।

*

*

Top