Bhalukanews.com

ভালুকার হবিরবাড়ি, কাচিনা ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

18268184_1429054927235753_8393619414598288087_n

ভালুকা নিউজ ডট কম, বিশেষ প্রতিনিধি: ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি, কাচিনা ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে সোমববার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি, বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা, পশু-পাখি ও উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে নারী ও শিশু সহ বেশ কয়েক জন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যা রাতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি, ছোটকাশর, বড়কাশর, জামিরদিয়া, গৌরিপুর, পাড়াগাঁও, সিডস্টোর বাজার, আওলাতলী, মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের মামারিশপুর ও কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও আধা ঘন্টা ব্যাপী বিশাল আকৃতির শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ২০ হাজার ঘর-বাড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ সময় মানুষ জীবন বাঁচাতে পরিবারের লোকদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন নির্মাণাধীন বহুতল ভবণ ও খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নেয়। ঝড়ে উপজেলার বড়চালা হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার টিনের বেড়াসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও টিনের তৈরী বেশ কিছু মসজিদের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়।18275158_1460755367320840_1564261963902623412_n

শিলাবৃষ্টিতে উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোন কোন ক্ষেতে কাঁচি লাগানো যাবেনা বলে স্থানীয়রা জানান। তাছাড়া শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার মাস্টারবাড়ি থেকে সিডস্টোর পর্যন্ত মহাসড়কে চলাচলরত প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এলাকাবাসি জানান, ইতোমধ্যেই অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে অনেক বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তারপর পোকায় ফসল অর্ধেকে নেমে আসে। আর সোমবারের শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে সব হারিয়ে এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক বিল্লাল হোসেন জানান, সন্ধ্যায় ঝড় শেষ হলে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি যেন সবই বিধ্বস্থ্য অবস্থা, আমার টিনের তৈরী ঘরগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এমন কি আম, কাঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের ফল ও পাতা মাটিতে পড়ে হাটু পর্যন্ত জমে আছে। পরে এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন অসহায়দের বাসা বাড়িতে চিড়া-মুড়ি বিতরণ করি।

শিলা মাথায় পড়ে শিরিরচালা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন আহত হন। তিনি সিডষ্টোর বাজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শিলা বৃষ্টির ভয়াবহ অবস্থা দেখে কাশর গ্রামের আঃ কাদির মিয়ার স্ত্রী জায়িদা আক্তার ও মাষ্টারবাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার শিশু ছেলে শামীম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাদেরকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।18222636_531198090603536_8925559088060526869_n
উপদ্রত এলাকা পরিদর্শনে এসে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান- তিনি সবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেছেন তার ধারনা শিলা ঝড়ে ২০ হাজারের উপরে বাড়ীঘর ও দোকানপাট নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মৌসুমী ফল সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে, তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল আজম খান জানান, হবিরবাড়ি এলাকাতো অনেকটাই আবাসিক, তারপরও যেটুকু ধানের আবাদ হয়েছে, তার মাঝে বেশ ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া কাচিনা ও মল্লিকবাড়িসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে যে, প্রায় ৬০ হেক্টরের মতো বোরো ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

শিলা বৃষ্টির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে শিলার ছবি আপলোড করতে দেখা যায়। অনেককেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে খোঁজ নিতে দেখা যায়।

*

*

Top