Bhalukanews.com

বেসরকারি মালিকানায় আরো বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

IMG_20170605_223636_579

প্রতিবেদক,ঢাকা: বেসরকারি মালিকানায় বিনা দরপত্রে আরো বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আগামী ১ বছরের মধ্যে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত উত্পাদন ক্ষমতা ও সরবরাহের মধ্যে তফাত বাড়তে শুরু করেছে। লোডশেডিং বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ধীরগতিতে শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের শেষ নাগাদ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনের আগে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কম সময়ে ছোট ও মাঝারি আকারের কয়েকটি কেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় সরকার।
বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে পারছে না। স্বল্পমেয়াদে নতুন কেন্দ্র নির্মাণ করা না হলে আগামী বছরগুলোতে সংকট আরো বাড়তে পারে। বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলো থেকে স্বল্পমেয়াদী ক্রয়চুক্তির সময়সীমা বৃদ্ধি, বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো কিংবা বিনা দরপত্রে যথাসম্ভব কম সময়ে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি সম্পাদনের লাভ-ক্ষতি যাচাই করা হচ্ছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় আগামী বছর থেকে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করার তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা, আগামী ২০১৮ সালে যখন বিদ্যুত্ সরবরাহে একটি স্বস্তির অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন থেকেই হ্রাসকরণের কার্যক্রম শুরু হবে।’
জানা যায়, নতুন কেন্দ্রগুলোর নির্মাণচুক্তি দ্রুত বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সরবরাহ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’-এর অধীনে করা হবে। এই আইনের মাধ্যমে ঠিকাদার ও সরকারের কর্মকর্তাসহ সব পক্ষই দায়মুক্তি পান। তবে নতুন কেন্দ্রগুলো ভাড়াভিত্তিক হবে কিনা এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, সাতটি ভাসমান এবং আটটি স্থলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ভাসমানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার ও ময়মনসিংহে দুইটি করে এবং চাঁদপুর, নোয়াপাড়া এবং বাগেরহাটে একটি করে কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব নিরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকায় ১০০ মেগাওয়াটের দুইটি ও চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর বাইরে মাগুরা, যশোর, লালমনিরহাট, নওগাঁ এবং জয়পুরহাটে একটি করে কেন্দ্র নির্মিত হবে।
বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, সংসদ নির্বাচন ঘিরে আগামী বছর মুখর থাকবে জাতীয় রাজনীতি ও নাগরিক জীবন। বিদ্যুত্ পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অর্জন। কিন্তু এ বছর সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে চায় সরকার। পাশাপাশি সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতা এবং তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আসছিলেন। এই অবস্থায় নতুন করে ছোট ও মাঝারি আকারের বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
ইতোমধ্যে সরকার ফার্নেস তেলভিত্তিক ৬টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছে। এগুলোর উত্পাদন ক্ষমতা হবে ৬০০ মেগাওয়াট। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এগুলো উত্পাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

*

*

Top