Bhalukanews.com

ডোমারে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর ডোমারে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন প্রকল্পের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের নিয়মানুসারে প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্য জীবিদের সুফলভোগী করার কথা থাকলেও তালিকায় অধিকাংশ নাম পাওয়া গেছে এলাকার বিত্তবান প্রভাবশালীদের। এ যেন দেখার কেউ নেই।
সংশ্লিষ্ট অফিসের সূত্র মতে,মৎস্য অধিদপ্তর,মৎস্য ও প্রাানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ০৫টি পুকুর/জলায় পূণঃখনন স্কীমে মোট ৪৫ লক্ষ ১০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে পুকুর/জলাশয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর,জলাশয় পুণঃখনন করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বেছে বেছে ওই সকল পুকুর জলাশয় নির্বাচন করা হয়েছে যা আগে থেকেই সচল আছে। এতে পুকুর/জলাশয়ের চারি ধারে কিছু মাটি ফেলে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করেছে অভিযোগ এলাকবাসীর। সরেজমিনে কথা হয় উপজেলা বামুনিয়া ইউনিয়নের সুবাস চন্দ্রের সাথে। তিনি জানান পঞ্চবটি আশ্রম পাড়া পুকুরটি আগে থেকেই সচল ছিল।পূণঃখননের নামে পুকুরে চারিধারে কিছু মাটি ফেলে এখানে প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ পাশেই ঢিল ছোড়া দূরত্বে এর চেয়ে বড় পুকুর ভরাট হয়ে পড়ে আছে কর্তৃপক্ষের সে দিকে নজর নেই। সুফলভোগী ভূমিহীন হিসাবে যাদের নাম তালিকায় আছে তাদের ক’জন ভূমিহীন তা খতিয়ে দেখলেই টাকাটা কি হয়েছে? তা এখান থেকেই বোঝা যাবে। এটাকে পুকুরপূণঃ খনন নাকি পুকুর চুরি বলবো বুঝতে পারছিনা। ডোমার বহুমূখি উচ্চবিদ্যালয়ে দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে। চলমান পুকুর দুটির চারি পারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সামান্য কিছু মাটি দিয়ে প্রায় ৯লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ এর পাশেই মুক্তিযোদ্ধা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পুকুরটি ভরাট হয়ে মশামাছির আড্ডায় পরিনত হয়েছে তা দেখার কেউ নেই। এতে যাকে ভূমিহীন সমিতির দলনেতা করা হয়েছে সে এলাকায় যথেষ্ট বিত্তশালী । তার ডোমার বাজার এলাকায় নিজস্ব বহুতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা মৎস্য অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে প্রতিটি প্রকল্পে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। অনেক সাংবাদিক নেতা তা নিয়ে গেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ডোমার বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয় ২টি পুুকুর,৮লক্ষ৯০হাজার,বামুনিয়া পঞ্চবটি ৭লক্ষ৮০হাজার ,সব্দিগঞ্জ ৮লক্ষ ৪০হাজার,মলানী পুকুর হরিণ চড়া ইউনিয়ন ১৪লক্ষ,মির্জাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর ৬লক্ষটাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসকল অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আকতারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, সকল কাজ নিয়মমাফিক করা হয়েছে।

*

*

Top