Bhalukanews.com

ভালুকা সিডস্টোর-সখীপুর সড়ক: এক বেহাল সড়কে লাখো মানুষের দুর্দশা

বিশেষ প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ জেলার সর্ব দক্ষিণে শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের শহীদ শমসের রোড (সিডস্টোর-সখিপুর) নামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলার কারণে এবং দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটির এমন বেহাল বলে জানা গেছে। এই একটি সড়কের দুরবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এসব এলাকার লাখো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ছোট-বড় যাত্রীবাহী গাড়িগুলো কাদাপানি ভরা বড় বড় খানাখন্দ পেরিয়ে সিডস্টোর বাজার থেকে বাটাজোর হয়ে সখীপুর যাওয়ার সড়কে চলাচল করছে। কোনো কোনো জায়গায় হাঁটুপানি বা তারও বেশি। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। অনেকেই শিকার হচ্ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার। ওই এলাকার জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি এমন অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে।

ঝুঁকিপূর্ণ ওই সড়ক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে যানবাহন, সেগুলো আবার যখন-তখন উল্টে যাচ্ছে। ১৪ কিলোমিটারের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও পড়েছে চরম হুমকির মুখে। সড়কটির ভালুকা অংশের (১৪ কিলোমিটার) অবস্থা এতই নাজুক যে গাড়ি নিয়ে চলাই মুশকিল। বিশেষ করে সিডস্টোর বাজার হতে কাচিনা বাজার পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার ও কাচিনা বাজারের এক কিলোমিটার পর থেকে বাটাজোর পাথারপার সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সিলকোট, কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু কাজের মান খারাপ হওয়ায় তা বেশিদিন টেকেনি।

‘বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ যে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকছে ক্লাসে’- বললেন স্থানীয় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান।

রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সিলকোট কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় তারা সড়কটির পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। বৃষ্টির দিনে কাদাপানি আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় তাদের জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।

মোমিন নামের এক অটোরিকশাচালক জানান, সড়কটির ভালুকা অংশের পুরোটাই চলাচলের অনুপযোগী। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। গর্তে পড়লে নষ্ট হয়ে যায় গাড়ির যন্ত্রপাতি। সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সিডস্টোর হতে বাটাজোর পর্যন্ত ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে জ্বালানি খরচও হয় বেশি। আর সড়কের অবস্থা নাজুক হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

ওই এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক শামিম আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সড়কটির বেহালের কারণে আমরা চালকরা এক সপ্তাহের বেশি একটি গাড়ি চালাতে পারি না। এর পরই গাড়ি নিতে হয় গ্যারেজে।’

বাটাজোর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব ভালুকা নিউজ ডট কম’কে জানান, রাস্তা দুই পাশের লোকজন মাটি ভরাট করে বাড়িঘর করায় রাস্তায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সখীপুর থেকে প্রতিদিন মাল ও যাত্রীবাহী প্রায় তিন হাজার গাড়ি এই রাস্তায় চলাচল করে। গাড়ি চলাচল বিঘিœত হওয়ায় কাঁঠাল, কলাসহ মৌসুমি ফল ও কাঁচামাল পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এই রাস্তায় চলাচলকারীরাই বোঝে এখান দিয়ে চলাচলের কষ্ট।

হবিরবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু ভালুকা নিউজ ডট কম’কে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কয়েকবার সড়কটি সংস্কার করেছি। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে বাড়িঘর তৈরি এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণেই এই জলাবদ্ধতা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম ভালুকা নিউজ ডট কম’কে জানান, সড়কটি মেরামতের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে এলজিইডি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় এমপির নির্দেশে সড়কটিকে যান চলাচল উপযোগী করার লক্ষ্যে সাড়ে ২৪ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে।

*

*

Top