Bhalukanews.com

ভালুকায় গৃহবধূ হত্যা না আত্মহত্যা

ভালুকা নিউজ ডট কম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরাপাড়া এলাকায় উম্মে হাবিবা নাদিরা (২৬) নামক এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্ট্রি হয়েছে। একদিকে মেয়ের পরিবার বলছে হত্যা অপরদিকে ছেলের পরিবার বলছে আত্মহত্যা।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামের মৃত লতিফ মাস্টার এর ছেলে নাজমুল হোসেন শুক্রবার (৪ আগষ্ট) সকালে তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা নাদিরাকে তাদের মেয়ে নওরিনকে গলায় চেইন পড়াতে বলায় পড়াতে দেরি হওয়ায় তাকে গলায় টিপে ধরলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার উদ্দেশ্যে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রশ্ন করলে নাজমুল এবং তার বড় বোন  ও ভাগনেরা বলতে ছিল স্ট্রোক করেছে। কিন্তু গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নাদিরার বড় বোন নাছিমা বেগম জানান, ময়মনসিংহ সদরের ৬২/২ ভাটি কাশর এলাকার মৃত মোতালেব খানের উম্মে হাবিবা নাদিরার সাথে নাজমুল হোসেনের ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের নওরিন নামে ৫ বছরের একটি মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকেই নাদিয়াকে নির্যাতন করতো নাজমুল, তার বড় বোন স্বামী পরিত্যাক্তা মাহফুজা আক্তার ও নাজমুলের ভাগীনা মেহেদী। তারাই তার বোন কে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে চাইছে।
নিহতের বড় ভাই হাবিব জানান, তার বোন নাদিরা সকাল ৯টায় তাকে ফোন করে তাকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করছে এবং তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে বলে। কিন্তু শেষ উদ্ধার করতে হলো বোনের লাশ।
এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার ওসি তদন্ত হযরত আলী জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় ঐ বাড়ির কাজের মহিলা সুন্দরী বেগম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মহিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার স্বামী নাজুমুল উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার বিষয়টি বলেন। পোস্ট মর্টেম রির্পোট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

*

*

Top