Bhalukanews.com

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাড়ান…. -সফিউল্লাহ আনসারী-

বন্যায় আক্রান্ত আজ বাংলাদেশ । সারাদেশে লাখ লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ হওয়ায় দেশজুড়ে নদ-নদীগুলোতে পানি থৈ থৈ অবস্থা। আমাদের দেশে প্রতি বছর বন্যা হয়,কোন বছর কম আবার কোন বছর ব্যাপক আকাওে বন্যা আক্রান্ত দেশ ও দেশের মানুষ। বিভিন্ন কারনে বন্যা হয়। “বাংলাদেশের বন্যা সংঘটনের জন্য দায়ী কারণগুলি হচ্ছে: ১) সাধারণভাবে নিন্ম উচ্চতাবিশিষ্ট ভূসংস্থান যার উপর দিয়ে প্রধান প্রধান নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদীগুলি তাদের শাখা-প্রশাখা এবং উপনদীর সমন্বয়ে ঘন বিন্যস্ত নিষ্কাশন জালিকা গড়ে তুলেছে ২) দেশের বাইরে নদনদীর উজান এলাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাত; ৩) হিমালয় পর্বতে তুষার গলন এবং প্রাকৃতিকভাবে হিমবাহের স্থানান্তর সংঘটন; ৪) পলি সঞ্চয়নের ফলে নদনদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া/নদীর পার্শ্বদেশ দখল হয়ে যাওয়া/ভূমিধ্বস সংঘটন; ৫) প্রধান প্রধান নদীসমূহে একসঙ্গে পানি বৃদ্ধি এবং এক নদীর ওপর অন্য নদীর প্রভাব বিস্তার; ৬) প্রকৃতির ওপর মানবীয় হস্তপে; ৭) জোয়ারভাটা এবং
বায়ুপ্রবাহের বিপরীতমুখী ক্রিয়ার ফলে নদনদীর সমুদ্রমুখী প্রবাহ ধীরগতি প্রাপ্ত হওয়া (back water effect): ৮) সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া; ৯) ভূ-গাঠনিক বিশৃঙ্খলা (ভূমিক¤প, নদীর প্রবাহ ও ভূরূপতত্ত্বে পরিবর্তন); ১০) সম্ভাব্য গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি”(উইকিপিডিয়া)।
বন্যার কারন যাই হোক এ মুহুর্তে এসব দুর্গত মানুষের খাদ্য,বস্র,বাসস্থান, ঔষধ, চিকিৎসা সেবা এবং অনুসাঙ্গিক সহায়তা জরুরী প্রয়োজন।
বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সরকার দুর্গতদের মানবিক সহায়তায় কাজ করছে। এ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি দেশের এনজিও,শিল্পপতি,সামাজিক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন,শিক-শিার্থী ব্যাবসায়ীসহ সকল স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। আশার কথা এগিয়ে আসছেন অনেকেই।
আমাদের দেশের দুর্গত এলাকার বেশীর ভাগ মানুষই দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত । তাদের অন্ন-বস্র-বাসস্থানের সাথে সাথে চিকিৎসা সেবা অতি জরুরী।কারন বন্যার কারনে বাড়ছে পানি বাহিত রোগ। দেশের চিকিৎসক সমাজ এ পরিস্থিতিতে সব‘চে মানবিক সহযোগীতা করতে পারেন এসব অসহায় গৃহহীন মানুষগুলোকে।
আমি একজন মানুষ হিসেবে দুর্গতদের পাশে দাড়ানোর উপযুক্ত সময় মনে করি এই বিপদের সময়ে। দেশের এমন দুর্যোগের সময়ে চুপ থাকা অনুচিত। সম্মিলিত উদ্যোগ ও অতি দ্রুত দুর্গতের কাছে সহায়তা পাঠানো দরকার। খাদ্য সামগ্রীর সাথে সাথে প্রয়োজন ভ্রাম্যমান টয়লেট। ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিমমের সাহায্যে সেনিটেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করাও জরুরী প্রয়োজন। রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে মহামারী যাতে না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য । মানুষের বিপদ-আপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করাই মানুষের আরাধনা-ধর্ম হওয়া উচিত। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে, একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। মানবতার পাশে দাড়ানোর সময় এখন; বন্যা উপদ্রুত এলাকায়। প্রকৃতিক বিপর্যয়ের এ অবস্থায় বন্যাদুর্গতদের পাশে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এগিয়ে আসা মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
আমাদের যার যার অবস্থান থেকে যথা সম্ভব সাধ্যমত মানব সেবায় নিয়োজিত করে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি । সবারই সুযোগ রয়েছে মানবতার দুর্দিনে সহায়তার হাত সম্প্রসারিত করার। আমরা সবাই মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে এভাবেই এগিয়ে আসতে পারি,দাঁড়াতে মানুষের পাশে,মানবতার পাশে।
সকল মানবের সহযোগীতায় বন্যা নয়, জিতুক মানবতা, দ্রুত উত্তরণ ঘটুক বন্যা পরিস্থিতির। শুভ প্রত্যাশা আজ সকলের…।

*

*

Top