Bhalukanews.com

‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’

বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আস্তে আস্তে বাড়ি ফিরছে। কিন্তু বন্যার পানি নেমে গেলেও তাদের জীবনের কষ্ট এতটুর জন্যেও নামেনি। নতুন করে যেন আরেক আতঙ্ক জন্ম নিয়েছে মনে। আর সেই আতঙ্কের নাম কিস্তি। বন্যার আঘাতে ঘর বাড়ি ভেঙে অসহায় মানুষগুলোর যখন সিমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। খোলা আকাশকে ঘরের ছাউনি করে স্বামী-সন্তান নিয়ে কোনো রকমে মাথা গুঁজার ঠিকানা খোঁজছেন; ঠিক তখনই বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান জোকের মতো তাদের পাওনা ঋণ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠছে। ঘর বাড়ির সাথে কিস্তির বইটি ভেসে গেলোও এনজিও কর্মীদের তাতে কিছু আসে জায় না। তাদের কথা কিস্তি দিতেই হবে। ঋণ করে পাতানো সংসারের সাথে কিস্তির বইটাও বানের জলে ভেসে গেছে বহু আগেই। তবুও রেহাই পাচ্ছেন না কিস্তি থেকে। এনজিও কর্মী এসে একরকম জুলুম করেই তাদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত। অপারগতা প্রকাশ করেও রেহাই মিলছে না কুড়িগ্রামের বলদিপাড়ার আক্তারুন,জামিলার মত অসংখ্য বানভাসি মানুষের। আক্তারুন কিংবা জামিলার মতো শত শত বানভাসি নারী ও তাদের পরিবার বন্যাপরবর্তী দুর্ভোগের পাশাপাশি এখন এনজিওর কিস্তির যাতাকলে শ্বাসরুদ্ধ জীবণ যাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকটসহ বন্যার ¯্রােতে বাড়িঘর ভেঙে বানভাসিদের আশ্রয়ের জায়গার সংকটের মধ্যে জোঁকের মতো জেঁকে বসেছে ুদ্রঋণ দেওয়া এনজিওগুলো। সদ্য পানি নেমে যাওয়া বন্যার ধকল সামলে ওঠার আগেই বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি এখন বানভাসিদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঋণের কিস্তি আদায়ে বানভাসিদের জোর-জুলুম না করতে এনজিওগুলোকে সতর্ক করলেও তা আমলে নিচ্ছে না এনজিওগুলো। গৃহহারা বানভাসিদের কাছে জোর করে কিস্তি আদায়ে পিছিয়ে নেই গ্রামীণ ব্যাংকও। বন্যার পর হাতে কাজ না থাকায় পরিবারের প্রধান কর্তা স্বামী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর তিগ্রস্ত হলেও তা ঠিক করতে পারছেন না। ঋণের কিস্তি আদায় করতে আসা এনজিওকর্মীদের আচরণ সম্পর্কে রয়েছে নানা অভিযোগ। তাই এসব বিষয় চিন্তা করে বানভাসি মানুষের মাথার ওপর থেকে কিস্তির বুঝা কমানো দরকার।
লেখক: সংবাদকর্মী
রাজীবুল হাসান

*

*

Top