Bhalukanews.com

বরমীতে কৃষক দোকানি অতিষ্ঠ :: খাদ্যাভাবে বানর

6

এস এম সোহেল রানা , গাজীপুর  ঃ বুড়া বান্দর ,বুড়ি বান্দর ,ঝুইলা বান্দর (মোটাতাজা) বাদরামী স্বভাবের বান্দর। আরো অনেক নামেই ডাকা হয় । আবার কেঊ কেউ বানর দিয়ে খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে । আর সেই বানর প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বিলিন হতে যাচ্ছে । কৃষকের ফসল নষ্ট করছে ,জামা কাপর নিয়ে যাচ্ছে, ছিড়ে ফেলছে । দোকানীর কলা,রুটি ,বিস্কিট নিয়ে যাচ্ছে । ব্যানার সাইনবোর্ড ছিরে ফেলছে । বিভিন্ন পন্য ছিনিয়ে নিচ্ছে । টিনের চালে বেপোরোয়া চলাফেরায় ঘড় ময়লাতে নোংরা হচ্ছে ।এমনটিই জানালেন বরমী বাসি।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ঐতিহ্যবাহী বরমী বাজার । এ বাজারে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে হাজারো হাজারো বানর বাংলাদেশের মানুষের মুখে ও অন্তরে স্থান নিয়ে ছিল । কালের বিবর্তনে বর্তমানে হাজার খানেক বেচেঁ আছে তাও আবার প্রচুর খাদ্য সংকটে ,অযতœ অবহেলায় , মানুষের অভিশাপ নিয়ে ।
শীতল্যার পাড়ে নদীকেন্দ্রীক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে বরমী বাজার ছিল প্রসিদ্ধ। আর এ বাজারের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে বানরের অবাদ চলাচলের বিষয়টিও। শত বছর আগে থেকে এ বাজারে বসতি গড়েছে বানর। কিন্তু নগরায়ন ও খাদ্য সংকটে এদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও ঐতিহ্যগত সৌন্দর্য হারাতে বসেছে ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক বন্যপ্রাণীর বসতি বরমী বাজার।

ব্যবসায়ী শরিফ জানান ,সে বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ । সারাক্ষন মাথায় রাখতে হয় কখন বানরের বাদরামীতে কি যেন তি সাধন হয় ।তার ফসল নষ্ট করে ।সীম গাছ ,লাঊ গাছ সহ সমস্ত ফসলী চারা নষ্ট করে ফেলে ।

স্থানীয়রা আরো জানান, এক সময় বাজারের চারপাশে গভীর জঙ্গল থাকায় বানর বসবাসের পরিবেশ ছিল অনুকুলে। সময়ের বিবর্তনে জনবসতি গড়ে উঠলেও এখানকার বানর স্থান পরিবর্তন করেনি। মানুষ বসবাসের পাশাপাশি বানরের অবস্থান যেন প্রকৃতির আরেক নতুন সংযোজন হয়ে উঠে এই এলাকার জন্য। বরমী বাজারের শামিম শেখ জানান, তিনি অনেক বছর ধরে এ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। শুরু থেকেই এ বাজার বানরের অবাধ বিচরণত্রে দেখছেন তিনি।।বাজারের আরেক অধিবাসী রাজু আহমেদ জানান, খাবারে অভাবে পড়লে বানর বাজারের বিভিন্ন বাড়ি থেকে কাপড় ও হালকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। আবার খাবার দিলে তারা সেগুলো ফেরত দিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ুধায় ভুগলে জনবহুল এলাকায় ও ফসলী জমিতে প্রবেশ করে বানরেরা মাঝে মাঝে ফসলেরও তি সাধন করে। ব্যবসায়ী অমল দেবনাথ জানায়, মানুষ যা খায় বনরেরাও সেগুলো খায়। আবার স্থানীয়ভাবে কিছু লতা বা গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে যা বানরের খাদ্য হিসেবেই এলাকার মানুষজন চেনেন। তবে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় বানরের সংখ্যা কমছে ও বংশবৃদ্ধি ব্যহত হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরণ বিভাগ নিয়মিত বানরের খোঁজ খবর নিলেই তাদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসতো বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসীরা।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, বরমী বাজারের বানরগুলো সংঘবদ্ধ। বাজারটি বড় হওয়ায় এখানে এরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বাস করে। এদের নিজেদের মধ্যে কোনো বিবাদে জড়িয়ে পড়লে বাজারের এক অংশের বানর অন্য অংশে যায় না। আবার দলের কোন বানর মানুষের হামলার শিকার হলে বাজারের সকল গোত্রের বানর একসাথে জোট বেধে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

1

বর্তমানে বরমী এলাকায় বানরের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি বরমী বাজারের কোনো অধিবাসী। তবে ১হাজারের মতো বানর এখও টিকে আছে বলে ধারণা করছেন তারা। অথচ ৫বছর আগেও এই বাাজারে অন্তত ৮হাজার বানর ছিল বলে তারা জানেন। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যের অভাবে এ এলাকার বানরগুলো অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। দিন দিন ক্রমশ কমছে বানরের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বানরের জন্য খাদ্য যোগানের ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি বরমীর ঔতিহ্য রাক্ষার্থে সরকারিভাবে খাদ্য যোগানের ব্যবস্থা করা অতি জরুরী।

ঢাকা বনবিভাগের শ্রীপুর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান- যশোরের কেশবপুর ও মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারিভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বানরের জন্য খাদ্য বরাদ্দ থাকলেও এই এলাকায় তেমন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিলে অর্থ যোগানের জন্য বন্যপ্রাণী বিভাগে যোগাযোগ করবো।

*

*

Top