Bhalukanews.com

ঘর সজ্জায় সাধ্য মতে ফার্ণিচার নির্বাচন

13266067_1174318695934528_6373555977518208919_n
আপনার পাশে “দামে কম মানে ভাল কাকলী ফার্ণিচার”
এস এম সোহেল রানা-গাজীপুর থেকে।;বাঙালি মাত্রই শান্তি প্রিয়।ঘর যতো ছোট বা বড়ই হোক, সেটা আমাদের আপন একটি পৃথিবী। নিজের ঘর, নিজ বাসার মত সুখ কোথাও নেই। তাই আমাদের সর্বোত্তম চিন্তা চেতনা সেই ঘরটি ঘিরেই । চেষ্টা থাকে ছিমছাম করে সাজিয়ে সাধ আর সাধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা যায় আপন ব্যাক্তিত্ব। ছোট বড় সেই বাসার অন্দরসজ্জা নিয়ে যেন আমাদের চিন্তার শেষ নেই।ভালোবাসার সেই ঘরে কোন আসবাব কোথায় রাখলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে,সাধ্যের মধ্যে কেমন আসবাব কিনলে ঘরের জায়গা ভালো দেখাবে,মনে মনে তাই ভাবি সারাক্ষন।পছন্দ, চাহিদা, রুচিশীলতা এবং স্বক্ষমতা, এই চারটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে কিভাবে ছোট ঘরটি নিজের পৃথিবীর মতো করে সাজানো যায়, আজ আমরা “দামে কম মানে ভাল কাকলী ফার্ণিচার” কে সাথে রেখে সেই ব্যাপার গুলো নিয়েই কথা বলবো।
একান্তে আলাপ চারিতায় এফ এম আমান উল্লাহ আমান জানান,প্রথমেই আপনার রুচি ও সাধ্যানুযায়ী ফার্ণিচার নির্বাচন করুন।তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কাকলী ফার্ণিচার।তার প্রতিষ্ঠানের শ্লোগান হলো “দামে কম মানে ভাল”।
ফার্নিচার নির্বাচন :- বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় ফার্নিচার ঘরে না রাখাই ভালো। খুব হালকা কাজ ও হালকা গড়নের ছিমছাম ফার্নিচার নির্বাচন করুন। অনেকটা বলতে পারেন অল ইন ওয়ানের মতোন ! যেমন একটি বড় স্লিম ওয়ারড্রোব বা আরমীরা একইসাথে সাইড টেবিল, কাপড়, বই খাতা রাখার কাজে আসতে পারে আবার ড্রেসিং টেবিলের কাজেও আসতে পারে।
১ : বক্স বেড ,সেমি বক্স বেড,ফ্লোরিং বক্স :-সেমি বক্স বেড:- এ খাটের নিচে ছয়,আট ইন্চি হাইসা থাকায় নিচে পুরোটা ফাকা থাকে। যার ফলে তাতখনিক অতিরিক্ত মালামাল যেমন: ঝাড়ু,মাদুর,মোড়া,বাচ্চাদের যাবতীয় খেলনা ইত্যাদি রাখা যায়। বড় কথা নিচে ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করা যায়।
ফ্লোরিং বক্স :-অনেকে সোফায় বা মাটিতে ঘুমাতে পছন্দ করেন। তাদরে জন্য আধুনিক বেড হলো সর্ট কাঠ বা পার্টিকেল বোর্ডের মাচার উপর মোটা জাজিম বা তোষক ব্যবহার করে ফ্লোরিং বক্স তৈরি করে নেওয়া।
কেটাগড়ি অনুযায়ী খাটের দাম:-এস এস পাইপের সিঙ্গেল ডাবল ৪ থেকে ৫ হাজার,নান্দনিক লেকার সেমি বক্স ৮ থেকে ১৫ হাজার,নরমাল বক্স ২০ থেকে ৩০ হাজার, ভি আই পি ৫০ হাজার থেকে দের লাখ টাকা মাত্র।
২: ড্রেসিং টেবিল বা মানানসই আয়না :-নিজেকে স্মার্ট রাখতে ও ঘরের শোভা বর্ধনে প্রয়োজন ছোট বড়,দামী- কম দামী একটি ড্রেসিং টেবিল।আপনার সামর্থনুযায়ী ঘরে একটি ছোট বড় মাপের ওয়াল আয়না ফিট করে নিন। এতে আপনি ড্রেসিং টেবিলের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। আর বড় আয়নার রিফ্লেকশনের কারণে আপনার ঘরটাও বড় দেখাবে।
বিভিন্ন ড্রেসিং টেবিলের দাম:-পার্টিকেল বোর্ডের ড্রেসিং ২ থেকে ৫ হাজার,লেকার ৮ থেকে ১২ হাজার,ভি আই পি ২০ থেকে ৩০ হাজারটাকা মাত্র।
৩: ওয়ারড্রোব জরুরী:- ওয়ারড্রোব আপনার বেডরুমের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওয়ারড্রোবে প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় রাখবেন ।নিজের জন্য উপরের ড্রয়ার আর বাচ্চাদের জন্য নিচের ড্রয়ার নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন ওয়ারড্রোবের ভেতর খুব অগোছালো করে রাখলে মানসিক প্রশান্তিটা মিলবে না। যে কাপড়গুলো পড়া হয় না তা সরিয়ে নিন।সপ্তাহে অন্তত একদিন ওয়ারড্রোবের কাপড়গুলো নতুন করে ভাঁজ করে রাখুন। কখনোই ওয়ারড্রোবে অপরিষ্কার কোন কাপড় রাখবেন না।ওয়ারড্রোব থাকলে আর আনলার প্রয়োজন নেই।
বিভিন্ন ওয়ারড্রোবের দাম : বিভিন্ন ড্রেসিং টেবিলের দাম:-পার্টিকেল বোর্ডের লোকাল ৬ থেকে ৮ হাজার,লেকার ৯ থেকে ১২ হাজার,ভিনিয়ার বোর্ডের ১৮ থেকে ৩০ হাজর। ভি আই পি বেন্ড ৩০ থেকে ৫৯ হাজার টাকা মাত্র।
৪: সাইড টেবিল ব্যবহার :- আপনার বেডরুমের সাথে মিল রেখে আকারে ছোট দেখে একটি ড্রয়ারসহ সাইড টেবিল কিনে নিতে পারেন। সাইড টেবিলের উপর টেলিফোন, ল্যাম্পশেড,জগ গ্লাস রাখতে পারেন।ড্রয়ারে খাতাপত্র,কলম,নীল কাটার,মোবাইল চার্জার,সিজার,ব্লেড ইত্যাদি রেখ দিন। এতে ছোটখাটো বিভিন্ন ধরনের জিনিস সুন্দর করেই রাখতে পারবেন। বিভিন্ন সাইট টেবিলের দাম:-পার্টিকেল বোর্ডে রলোকাল বা লেকার বা বেন্ড বা ননবেন্ড ২ থেকে ৮ হাজার টাকা হতে পারে।
৫.ডাইনিং টেবিল এর তুলনাহীন:- আনন্দময় পরিবারে সময়টাই জমিয়ে খাওয়া আর খাওয়ানোর সময়। কিন্তু শুধুমাত্র ভাল ভাল রান্না করলেই তো চলবে না, বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করে তাক লাগাতে হলে সেই খাবার পরিবেশনও জরুরী । খাবার ঘর বা ডাইনিং রুমের মুল উৎস হলো ডাইনিং টেবিল আর চেয়ার। খাবার টেবিলকে উৎসবময় করে তোলার জন্য টেবিল টপের চারপাশে টেবিল ম্যাট গুলো পেতে দিন। টেবলে ফুলদানী ও সোপিছ থাকতে পারে।অথিতিরা বসার পূর্বেই রাইছ ডিস,থালা-বাসন,জগ-গ্লাস,বাটি-লবনদানী,সালাত ও বনপ্লেট চমৎকার ভাবে সাজিয়ে নিয়ে খাবার খাওয়ার আহবান করুন।
৬.বিভিন্ন ডাইনিং টেবিলের দাম:-পার্টিকেল বোর্ডের লোকাল ১৫ শত থেকে ২ হাজার,প্লাস্টিক ২৫ শত থেকে ৪ হাজার,সাথে যে কোন ধরনের চেয়ার ৫ থেকে ৮ শত দামের নেওয়া যায়।গ্লাস পাইপের সেট ১২ থেকে ২০ হাজার টাকায় মিলবে।লেকার ননবেন্ড সেট ২০ থেকে ৩৫ হাজার,বেন্ড ৪৫ থেকে ৮০ হাজার।
৭.সোফা সেট অতিব জরুরী:- আপনার ঘরে মেহমান আসলে প্রথমেই বসতে দিতে হবে।তারপর অন্তত্য চা-নাস্তা,সরবত টি টেবিলে আনতে হবে।আর বসার জায়গাটা যদি আভিজাত্যের পরিচয় হয় তাহলেতো কোন কথায় নাই, চমৎকার।কিছু গেস্ট স্থান পায় সোফায়,কিছু বেড রুমে,কিছু গেস্ট রুমে।বেশির ভাগই অল্প সময়ে প্রয়োজন সেরে বিধায় নেয়।কাজেই সাধ্যানুযায়ী সোফার ব্যবস্থা করেন।আসুন এবার জেনে নেই সোফার বাজেট বিষয়ে।সোফা সেট হয় ওয়ান (সিঙ্গেল),টু (ডাবল),খ্রি(তিনটি সিট এক সাথে)।১+২+৩=১ সেট আবার ১+২+২=১সেট হয়।আপনি সাধারন গদি সোফা কিনতে পারছেন মাত্র ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়,যা দিয়ে ঘর ভরে যাবে।আর একটু ভালো চাইলে লাগবে ২০ থেকে ৩০ হাজার।কাকলী ব্র্যান্ড পাবেন ৪০ হাজারে।এছাড়াও আলিসান সোফা পাচ্ছেন ৫০ হাজার থেকে এক দের লাখ টাকায়।মনে রাখবেন একমাত্র সোফাসেটই আপনার ঘরের প্রথম আকর্ষন।
৮.রিডিং টেবিল বা স্টাডি রুম:- স্টাডি রুমে রিডিং টেবিল,চেয়ার আর শুধু গাদা গাদা বই নয়। এখানে রাখতে পারেন বসে বা শুয়ে বই পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব যা আরামদায়ক ও স্বস্তিকর। । স্টাডি রুমের প্রথম শর্ত হচ্ছে রুমটি হতে হবে নীরব, অতিরিক্ত শব্দ,হইচই কোলাহল মুক্ত। পড়ার টেবিলটি জানালার সাইডে রাখতে পারেন। ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো হলে ভালো,না হলেও ক্ষতি নেই। টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি ঘরে মূল্যবান ফাইল বা কাগজপত্রের জন্য কাঠের বা প্লাইউডের টেবিল বা ড্রয়ারওয়ালা ডেস্ক রাখতে পারেন। যে ডিজাইনেরই সেলফ বানান তা যেন সহজে পরিষ্কার করা যায়। ঘর ছোট হোক বা বড়, আসবাব থাকুক বা না-ই থাকুক, ঘর থাকবে চকচকে,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাই বড় কথা। ।

*

*

Top