Bhalukanews.com

নবীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীর কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখল

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি:নবীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীর কোটি টাকার সম্পত্তি জোর পুর্বক দখলে নিয়েছেন উপজেলার পারকুল গ্রামের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা কাউছার মিয়ার ভাই গৌছ মিয়া। নিরুপায় হয়ে লন্ডন প্রবাসী নানু মিয়া ও তার স্ত্রী আঙ্গুরা বেগম সিলেট বিভাগের ডিআইজি প্রবাসী কল্যাণ সেল, সিলেট বরাবরে আবেদন করেছেন।
সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী নানু মিয়া ও তার স্ত্রী আঙ্গুরা বেগম ১৯৯৬ ইং সনে শেরপুর আবাসিক এলাকায় ভুমি ক্রয় করে তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। উক্ত বাড়িটি আজলপুর গ্রামের হিরণ মিয়ার ছেলে মোঃ আনর মিয় ২০০০ সাল পর্যন্ত দেখাশুনা করেন। পরবর্তীতে আঙ্গুরা বেগমের ভগ্নিপতি শাহজাহান সিরাজ’কে দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৮ সালের মাঝামাঝি লন্ডন প্রবাসীদের আত্মীয়তার সুবাধে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের মৃত রজব উল্লার ছেলে ও বিএনপি নেতা কাউছার মিয়ার ভাই প্রভাবশালী গৌছ মিয়াকে পাওয়ার অব এটনিমুলে বাড়িটি দেখাশুনার জন্য কেয়ারটেকার নিয়োগ দেয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রভাবশালী গৌছ মিয়ার সাথে লন্ডন প্রবাসী দম্পতি মৌখিক চুক্তি তিন তলার বাড়ির দু’ তলায় গৌছ মিয়া নিজে ব্যবহার করবেন এবং নীচ তলা হিসেবে ব্যবহার করে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া দিবেন। দু / এক মাস ভাড়া দেয়ার পর সুচতুর গৌছ মিয়া এক সময় ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেন। লন্ডন প্রবাসী নানু মিয়া ও আঙ্গুরা বেগম সময় মতো ভাড়ার তাগিদ দিলে নানা কৌশলে দেই দিচ্ছি বলে সময় কর্তন করে। এক পর্যায়ে ভাড়া পরিশোধ করে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেন লন্ডন প্রবাসী দম্পতি। তাতেও কর্ণপাত করে নি প্রভাবশালী গৌছ মিয়া। ফলে লন্ডন প্রবাসী আঙ্গুরা বেগমের ভগ্নিপতি শাহজাহান সিরাজ এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বীয়ানদের সহযোগিতায় ভাড়া পরিশোধ না করেই বাড়ি ছাড়েন। পরে লন্ডন প্রবাসী দম্পতি রাধাপুর গ্রামের তাদের আত্মীয় মৃত মদরিছ মিয়ার ছেলে আতর আলীকে বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ দেন এবং গৌছ মিয়া দেয়া ক্ষমতাপত্র বাতিল করেন। ২০১৭ইং সালে আতর আলী দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বিধ্বস্ত ঘরের মেরামত সম্পন্ন করে ভাড়া দেয়ার প্রস্তুতি কালে প্রভাবশালী গৌছ মিয়া লন্ডন প্রবাসীদের কোটি টাকার বাড়ি লাটিয়াল বাহিনী নিয়ে জবর দখল করেন। ঘটনার প্রেক্ষিতি লন্ডন প্রবাসী নানু মিয়া, আঙ্গুরা বেগম এবং তাদের কেয়ারটেকারসহ আত্মীয় স্বজনরা সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুবিচার না পেয়ে মৌলভী বাজার সদর থানায় মামলা নং-২১৯/১৭ইং দায়ের করেন। উক্ত মামলায় জামিনে এসে গৌছ মিয়া, তার শশুড় নসীর আলী, শ্যালক নওয়াব আলী ও জুলফিকার আলী গংরা ক্ষিপ্ত হয়ে লন্ডন প্রবাসী আঙ্গুরা বেগমের অপর আরেকটি টিন সেটের বাড়ি জবর দখল করেন। এছাড়াও উক্ত লন্ডন প্রবাসীদের ৮/১০ কেদার জমি বন্ধক দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গৌছ মিয়া ওই এলাক্য়া প্রভাবশালী হওয়ার সুবাধে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায়না। নিরুপায় হয়ে লন্ডন প্রবাসী নানু মিয়া এবং আঙ্গুরা বেগম সিলেট বিভাগের ডিআইজি প্রবাসী কল্যাণ সেল, সিলেট বরাবরে আবেদন করেছেন। তারা তাদের কোটি টাকা সম্পত্তি প্রভাবশালী গৌছ মিয়ার কবল থেকে উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নবীগঞ্জ উপজেলার ৮৮টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজার ব্যাপক প্রস্তুতি,
শহরসহ সর্বত্র উৎসবের আমেজ !

উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে ৮১টি ও পৌরসভায় ৭টি মিলে ৮৮টি পূজা মন্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পুজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে মন্ডপ সাজসজ্জার কাজ। শারদীয় এ পুজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল পুজারী ও ভক্তবৃন্দের মাঝে বিপুল আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দীপনা ঘাটতি নেই বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক লোকজনের মাঝেও । প্রতিমা কারিগরগন দিনরাত কাজ করে ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ইতিমধ্যে শেষ করেছেন মুর্তির রংতুলির আছড়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ। নবীগঞ্জ সদর কেন্দ্রীয় গোবিন্দ জিউড় আখড়া পুজা সংঘ,শিবপাশা সন্ন্যাস সংঘ,লোকনাথ মন্দির পুজা সংঘ,গয়াহরি প্রগতি সংঘ, গয়াহরি শ্রী দুর্গা সংঘ, গীতা সংঘ,পূর্ব তিমিরপুর পুজা সংঘ ৭টি পুজায় ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। তবে পৌর এলাকার শিবপাশা সন্ন্যাস পুজা সংঘ কমিটির পুজারীবৃন্দ সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও সুন্দর আয়োজন হাতে নিয়েছেন।
শাস্ত্রমতে জানাযায়, এ বছর দেবী নৌকায় আগমন এবং ঘোটকে গমন করবেন । এ বছর নবীগঞ্জ ১৩টি ইউনিয়নে ৮১টি এবং পৌরসভায় ৭টি মন্ডপে সাড়ম্বরে পূজা অনুষ্টিত হবে। প্রত্যেক পূজা মন্ডপের সেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের প থেকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি নিখিল আচার্য্য বলেন,আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা সুন্দর ও সুষ্টভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সকল শ্রেনীপেশার মানুষের সহযোগীতা কামনা করি।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলার ৮৮ টি পূজা মন্ডপে সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা সাড়ম্বরে পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিছু ঝুকিপূর্ন মন্ডপসহ সবকটি মন্ডপেই ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। দুর্গাপুজা সুন্দর ও সুষ্টভাবে সম্পাদনের জন্য প্রশাসনসহ সকল শ্রেনীপেশার মানুষের সহযোগীতা কামনা করি।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন,নবীগঞ্জ উপজেলার ৮৮টি পুজা মন্ডপে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা উদযাপন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর নবীগঞ্জের প্রতিটি পুজা মন্ডপে ৫০০ কেজি করে সরকারী চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুজানুষ্টান শান্তিপূর্নবাবে পালনের জন্য সকল ধরনের প্রশাসনিক ব্যস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসবের আনন্দ সবার। বর্তমান সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় শারদীয় দুর্গাপুজায় সকল ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।
আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ষষ্ঠীপুজার মধ্য দিয়ে নবীগঞ্জের সকল পুজা মন্ডগুলোতে ৫ দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গাপুজা শুরু হবে। এ পূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ন্যায় নবীগঞ্জের সকল পুজারী ও ভক্তবৃন্দের মাঝে সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে।

*

*

Top