Bhalukanews.com

সাফারি কিংডম বিশেষ আকর্ষন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

এস এম সোহেল রানা,গাজীপুর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সাফারি কিংডম নজরে আসলেই মনে হবে যেন সিনেমার আফ্রিকার কোন পার্কে ডুকেছি। ধীরে ধীরে ফটকে গুহার দিকে যেতে নয়ন জু—ায়। মনে মনে হবে ভাববেন ভিতরে বিশেষ কিছু আপনার অপেক্ষায় । তাক লেগে যাবে সোনালি সবুজ ম্যাকাও পাখির ভালবাসায়।
৫৫৬ একরের মধ্যে তৈরি করা এই অংশে ঢুকতে গেইটের পাশেই ম্যাকাও ল্যান্ড। এখানে আছে নীল-সোনালি ম্যাকাও, সবুজ ম্যাকাও, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, টিয়া, পেলিকেন, লুটিনো রিংনেক প্যারটসহ প্রায় ৩৪ প্রজাতির পাখি। সবগুলোই আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে।
ম্যাকাও ল্যান্ডের পাশেই মেরিন অ্যাকুরিয়াম। রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির মাছ। ক্রোকোডিল ফিস, টাইগার ফিস, অস্কার। রয়েছে চিকলেট মাছ যা ২০ সেকেন্ড পর পর রং পরিবর্তন করে।
এছাড়াও রয়েছে প্রজাপতি সাফারি। যেখানে প্রায় ২৬ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। সাফারি কিংডমে রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন, জিরাফ ফিডিং স্পট, আইল্যান্ড, বোটিং ও লেইক জোন।
তাছাড়া অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, ক্যাঙারো, হাতি শো গ্যালারি।সাফারি কিংডমের পশ্চিমে অংশে আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালি তিনটি পাখিশালা। ধনেশ পাখিশালায় রয়েছে প্রায় আট প্রজাতির পাখি। এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্যারট, ফিজেন্ট ধনেশ, ফ্লেমিংগো ও বিরল প্রজাতির মান্ডারিন ডাক ছাড়া হয়েছে।
হঠাৎই তাকিযদেখলেন সোজা আপনার দিকে এগিয়ে আসছে একটা বাঘ! বাঘই হোক কিংবা সিংহ বা ভালুক, আর যতই সে আপনাকে দেখুক বা এগিয়ে আসুক, আপনার নাগাল পাচ্ছে না! এমন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলেও আমরা অনেকেই হয়তো সিনেমায় এমন দৃশ্য দেখি। দেখে মনে হয়, এই বুঝি সিংহের কবলে পরে গেল ওরা! কিন্তু না, ভয়ের কিছু নেই! আসলে গাডেিত চেপে ঘুরে ঘুরে আফ্রিকার কোনো বিশাল সাফারি পার্কে বে—াচ্ছিলেন ওই পর্যটকেরা। আপনাকে কিন্তু আফ্রিকায় ও যেতে হবে না অথবা নিছক সিনেমায় ও দেখতে হবে না, যেকোনো দিন নিজেই ঘুরে আসতে পারেন এমন সাফারি পার্কে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করা পশুপাখি, জীবজন্তু দেখার ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকার একদম পাশে গাজীপুরে গ—ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একদিন ঘুরে বেনোর ব্যবস্থা এবং ছোট্ট সোনামণিদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীবজন্তু সম্পর্কে সরাসরি পরিচিত করিয়ে দেয়ার সুযোগ রয়েছে এই সাফারি পার্কে। ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটারের রাস্তা। সেখানেই একসময়ের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়ালগ—। ওই ভাওয়ালগ—ের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশেই চালু করা হয়েছে এই বঙ্গবন্ধু সাফারি র্পাক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে চোখের সামনে সিংহের দেখা মিলবে।
তিন হাজার ৬৯০ একর জায়গা নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সাফারি পার্ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বন সংরক্ষক ড. তপন দে জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরে এই পার্কে এক হাজার ২২৫ একর এলাকা নিয়ে কোর সাফারি, ৫৬৬ একর এলাকা নিয়ে সাফারি কিংডম, ৮২০ একর এলাকা নিয়ে বায়োডাইভার্সিটি, ৭৬৯ একর এলাকা নিয়ে এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি এবং ৩৮ একর এলাকা নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। পার্কে বন্য ও অবমুক্ত প্রাণীর নিরাপত্তার জন্য ২৬ কিলোমিটার মাস্টার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এই প্রাচীরের ভেতরে থেকে উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করা বন্য প্রাণী দেখতে পারেন। পার্কে বাঘ, সিংহ, ভাল¬ক চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, ওয়াইল্ড বিস্ট, বে¬সবক, উটপাখি, ইমুসহ বেশ কিছু প্রাণী মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে।
বন ও প্রাণীবৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য এই সাফারি পার্কে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র। এ ছা—া তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম, পার্ক অফিস, বিশ্রামাগার, ডরমেটরি, বন্য প্রাণী হাসপাতাল, কুমির পার্ক, লিজার্ড পার্ক, ফেন্সি ডাক গার্ডেন, ক্রাউন ফ্রিজেন্ট এভিয়ারি, প্যারট এভিয়ারি, ধনেশ পাখিশালা, ম্যাকাউ ল্যান্ড, মেরিন অ্যাকুয়ারিয়াম, অর্কিড হাউস, প্রজাপ্রতি বাগান, ক্লাইমেট হাউস, ভালচার কর্নার, ঝুলন্ত ব্রিজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, কচ্ছপ প্রজননকেন্দ্র, ইকো রিসোর্ট, ফুডকোর্ট, এলিফ্যান্ট শো গ্যালারি, বার্ড শো গ্যালারি, এগ ওয়ার্ল্ড ও শিশুপার্ক রয়েছে। আছে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বাস ও সাফারি জিপ। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ১১টি বাঘ, নয়টি সিংহ, চারটি জিরাফ, চারটি হাতি, ২৮টি কুমির, ২০টি ম্যাকাউ পাখি, ৩ শতাধিক টিয়া পাখি, নয়টি ভাল¬ক, ২৩টি হরিণ, ৪৫টি ক্রাউন ফ্রিজেন্ট ও ছয়টি জেব্রাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সহস্রাধিক পশুপাখি রয়েছে।

*

*

Top