Bhalukanews.com

স্থবির সোনালী আঁশের জমজমাট মাওনা বস্তাপট্টি

এস এম সোহেল রানা ,গাজীপুর ঃচালের দাম কমাতে তিনমাস প্লাস্টিক বস্তা ব্যবহার অনুমোদনে থমকে গেছে মাওনার জমজমাট বস্তাপট্টি। বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাট। সেই পাটজাত পণ্য দিয়েই হয় বস্তা। ব্যবহার করা বস্তা বারংবার ফিরে আসে মাওনা বস্তা পট্টিতে। বস্তা ছেড়া ফাড়া সেলাই করে পুনরায় মান অনুযায়ী বিক্রি হয় রাইসমিলে।শতাধিক শ্রমিক বস্তায় কাজ করে বেশ ভালই রোজগাড় করছে। পাইকারী ও খুচরা দরে ২০ থেকে ৩০ টি দোকানি জমজমাট ব্যবসা করে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
ব্যবসায়ী সিদ্দিক জানান,দিনাজপুর,কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বস্তা বিক্রি করতাম।বর্তমানে একেবারেই কেনা বেচা বন্ধ।কদর নেই বস্তার। মিল মালিকগণ ক্রয় মুল্যের চেয়ে অনেক টাকা দাম কম বলে।মান অনুযায়ী বস্তার তিনটি নাম্বার আছে। ১ নাম্বার বিক্রি হতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা।২ নাম্বার বিক্রি হতো ২০ থেকে ৩০ টাকা।৩ নাম্বার বিক্রি হতো ৮ থেকে ১৫ টাকা।আরেকটি ব্যাপার হলো প্লাস্টিক বস্তা ৮ টাকায় কিনে ভূট্টামিল মালিকগণ এসুযোগে চালিয়ে নিচ্ছে।
পাটজাত পণ্য উৎপাদনে নিন্ম আয়ের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নারী পুরুষ কাজ করে যাচ্ছে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আশেপাশের জেলাগুলোতে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পাটপণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে। পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে, পাশাপাশি পাটের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরে আসবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন করে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭৩.১০ কোটি ডলার আয় করে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারি করেছে, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি ব্যবসায়ীরা পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে ব্যাংক ঋণ পাবেন না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে লাইসেন্স বাতিল হবে রাইস মিল, হাসকিং ও চাতাল মালিকদের। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পেতে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মুচলেকা দিতে হবে যে ডব্লিউপিপি ব্যাগ উৎপাদন ও সরবরাহ করবে না। এভাবে অনেক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট রয়েছে নতুন এ আইনটি বাস্তবায়নে।
১২-১০-১৭ ইং
০১৭১১ ৫১ ৪০ ৬০

*

*

Top