Bhalukanews.com

শ্রীপুরের বরমীতে প্রায় কোটি টাকায় সংস্কারের পরও খেয়া ব্যবহার হচ্ছে না

5

গাজীপুর প্রতিনিধি ঃগাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীতে এ বছর পৌনে এক কোটি টাকা ব্যয়ে খেয়াঘাট পুননির্মাণ করা হয়েছে। তবে ঘাট ব্যবহারে নৌকার মাঝি ও যাত্রীদের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন নির্মাণ ত্র“টিকে দায়ি করে বর্তমানে বিকল্প জায়গায় লোহার সিঁড়ি বসিয়ে চলাচল করছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, বরমী বাজারের পাশেই তৈরি করা হয়েছে খেয়াঘাটটি। ঘাটের সিঁড়িতে খড়ের স্তুপ। ব্যবহার না হওয়ায় বাঁশের পাইকাররা সেখানে বাঁশ রেখে বিক্রি করছেন। এক ব্যবসায়ী জানান, ঘাটটি কোন কাজেই আসে না। তাই সেখানে রেখে বাঁশ বিক্রি করেন।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯৯৬ সালে শীতল্যার শাখা বানার নদে রহমত আলী নামে এই ঘাটটি পাকা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের শুরুতে মোট ৭৫লাখ ৭৫হাজার টাকা ব্যায়ে তা সংস্কার করা হয়। এই সংস্কারের আউতায় ঘাটে উন্নত শৌচাগার, সাধারন বিশ্রামাগার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মিত খেয়া ঘাটের পানি লাগোয়া সিঁড়িটির মোট দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট ও প্রস্থ ৩৩ফুট।বরমী বাজারের ব্যবসায়ী আল-আমীন বলেন, পূর্বে এ ঘাটটিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসংখ্য ইঞ্জিন ও বৈঠাচালিত নৌকা ভিড়তো। বর্তমানে পুনঃসংস্কার করার পর নৌযান চালক ও যাত্রীদের মাঝে তা ব্যবহারে অনিহা দেখা যাচ্ছে । এর অবস্থান ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের সীমানাসংলগ্ন হওয়ায় খেয়া ঘাটিও ব্যস্ত থাকে সব সময়। তাই মূল ঘাটের পাশে বিকল্প একটি সিঁড়ি স্থাপন করে সেখান দিয়েই যাত্রীরা চলাচল করতে দেখা যায়।স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ৫০ফুট দৈর্ঘ্যের সিঁড়িটি তুলানামূলক খাড়া হওয়ায় সেখানে নৌকা ভিড়াতে সমস্যা হয়। তা ছাড়া নৌকা ভিড়লে সিঁড়ি খাড়া হওয়ায় যাত্রীদের সিঁড়িতে নামতে সমস্যা হয়। সিঁড়িটি আরও হেলানো থাকলে খুব সহজে নৌকা ভিড়ানো সম্ভব হতো। তা ছাড়া সিঁড়ির ধাপগুলোর এক একটির দূরত্বের বিষয়েও আপত্তি তোলেন অনেকে।বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার বলেন, সিঁড়িটি কিছুটা খাড়া হওয়ায় ও এর ধাপগুলো সঠিকভাবে বিন্যস্ত না হওয়ায় যাত্রী ও নৌযান চালকরা এই ঘাটটি কম ব্যবহার করছেন। তা ছাড়া ঘাটটিতে মোটরযান ও বিকলাঙ্গদের জন্য হুইল চেয়ার ওঠার আদালা কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে নদীর ওই পারের মানুষ নৌকায় করে মোটরসাইকেল,হুইল চেয়ার বা বাইসাইকেল নিয়ে আসলে এই ঘাটে নামেন না। এই অবস্থার কারনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলে ২৫হাজার টাকা ব্যয়ে বিকল্প পথে একটি লোহার সিঁড়ি তৈরি করে। বর্তমানে লোহার সিঁড়ির ঘাটটি সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। নতুন সংস্কারে ঘাটটিকে অনেক উন্নত করা হয়েছে কিন্ত সিঁড়িটি আরও হেলানো হলে হয়তো এই ঘাটটি সর্বোচ্চ ব্যবহার হতো।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলডিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন বলেন, সিঁড়িটি আরও বেশি হেলানো থাকলে পানি বৃদ্ধি পেলে নৌ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়তো। তাই এর ঢাল আরও বেশি বাড়ানো হয়নি। পানি কমে গেলে এর নীচের দিকের দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানো পরিকল্পনা আছে। ঘাটটিকে যাত্রীবান্ধব করতে সেখানে উন্নতমানে শৌচাগার ও বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শেড তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন আরও সংস্কার করা হবে। স্থানীয়ভাবে নৌযান চালকদের সচেতন করতে পারলে এই ঘাটটি সুবিধাজনক ঘাট হিসাবে সমাদৃত হবে বলে আমি মনে করি।

*

*

Top