Bhalukanews.com

নেশা ও আমার শখের সাংবাদিকতা_এস এম সোহেল রানা

সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলা হয়। প্রত্যেকেরই লেখালেখির ইচ্ছা কৈশরেই মনের মাঝে বাসা বাঁধে। কারো হয়ে উঠে আবার কারো হয় না। রয়ে যায় অসমাপ্ত লেখা অগোছালো ভাবে ঘরের কোনে। বড় হয়ে অনেকেই বাস্তবতার মুখমুখী হয়ে হারিয়ে ফেলে স্বপ্ন। আবার কেউ লেখালেখিকেই পেশা হিসাবে গ্রহন করে নিজের স্বত্তাকে বাঁচিয়ে রাখে। আমি জীবনের মাঝ বয়সে প্রাপ্তির প্রায় শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নয় নেশা হিসাবে গ্রহন করেছি। আমার শখের সাংবাদিকতা, আমার ভালোলাগা, আমার ভালোবাসা।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। যদিও সাংবাদিকতা কোন চাকুরি নয়, পেশার চেয়ে অনেক বেশি নেশা। এ পেশার প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অধিকাংশ সচেতন মানুষের। এ স্বাধীন পেশায় পেশায় যেমন রয়েছে ঝুঁকি, তেমন রয়েছে আত্মতৃপ্তি,সম্মান ও রোমাঞ্চ। একজন সৎ নির্ভিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক সমাজের কাছে যেমন সমাদৃত তেমন সমাজ বিরোধীদের কাছে আতংক । সংবাদ পত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত।
অভিজ্ঞতার এক দশকে এসে বরং নেশার বশেই সাংবাদিকতা করছি। আমার কাছে এ নেশা অনেক তীব্র। আর সে কারণেই আমি আজীবন সাংবাদিক থাকতে চাই। এই নেশা ছড়িয়ে পড়ুক সকল সাংবাদিকের মধ্যে। এই নেশাটা হচ্ছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার নেশা।এ পেশায় নেই কোন অর্থ উপার্জন । চিন্তা ও লেখায় প্রচুর সময় ব্যায় হয়। তাতে সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ একটুও কমেনি বরং উল্টো সাংবাদিকতার নেশাটা বেড়েছে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দেশ ও দশের জন্য কাজ করে চরম আনন্দিত হই।
সমাজে প্রভাব বিস্তার করে এমন বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিষয়, ধারণা ও মানুষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি ও পরিবেশনই সাংবাদিকতা। একটি সংবাদ একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। বদলে দিতে পারে একটি প্রতিষ্ঠান,এমনকি কোন কোন সময় সমাজ-রাষ্ট্রও। দৃষ্টি কাড়তে পারে দেশের জনগণ থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত অথবা প্রবাসীসহ বিশ^বাসীর। নিউজের কারনেই সমস্যা সমাধান হতে পারে। অপরদিকে হলুদ সাংবাদিকতা সমাজের ক্ষতি সাধন করে। অতিরঞ্জিত অভিযোগ বা গুজব বিষয়ক প্রতিবেদনকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয়।
এ পেশা যেমন স্বাধীন তেমন প্রতিযোগিতামূলক ও হিংসাপরায়ন। মফস্বলে বহু গ্রুপ আর গ্রুপ,কেউ কেউ একলা চলে। একে অন্যের ভালো দেখতে পারেনা। সারাক্ষন কাদা ছুড়াছুড়ি। আর হলুদে হলুদে ভরপুর। সাংবাদিক নেতাদের দল ভারী করার জন্যে হলুদদের সাথে বেশ মাখামাখি। এ ব্যাপারে আর বেশি কিছু বলতে চাইনা কারন উপরের দিকে নিজের ছুড়া থুথু নিজের গায়েই পরে। কিছু কিছু জুনিয়ররা বেশ ভালো একটিভ। আরো বলা যায়,বর্তমানে সাংবাদিকতা করতে এসে অনেকেরই প্রচন্ড ইচ্ছাটি নষ্ট হয়ে যায় অফিসের কারণে। একজন সাংবাদিক ভালো রিপোর্ট করছে কিন্তু নুন্যতমভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভালো বেতন পাচ্ছে না। চলে প্রতিষ্ঠানের নানান রাজনীতি ফলে ছেলে বা মেয়ে সাংবাদিকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ফলে মনের দুঃখে একদিন সাংবাদিকতাকে সে চাকুরি বানিয়ে অসৎ হতেও আর দ্বিধা করে না।

জার্নালিজমে শিক্ষার কোন উল্লেখযোগ্য মাপকাঠি না থাকলে ও ভাষা ও বানান সম্পর্কে সতর্ক জ্ঞান থাকা আবশ্যাক । সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা সম্পুন্ন, মেধাবী ,স্মার্ট ও চটপটে হতে হয় । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত ধের্য্য, সাহস ও মানসিকতা থাকতে হয়। সাংবাদিককে নিরপেক্ষ হওয়া বাধ্যতামুলক । সংবাদ লিখতে মানতে হয় পদ্ধতি।এ পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘‘ফাইভ ডাব্লুউ ওয়ান এইচ ’’ ফরমুলা। বাংলায় বলা হয় ‘‘ষ ড় ক’’ ফরমূলা । যেমনঃ (১) কে (২) কবে (৩) কখন (৪) কোথায় (৫) কি ভাবে (৬) কেন।
সংবাদ লেখার প্রথমেই ঠিক করে নিতে হয় ‘‘সংবাদ শিরোনাম ’’ সংক্ষিপ্তাকারে চমকপ্রদ বাক্যে। যাতে পাঠকের সংবাদ পড়ার আগ্রহ সৃিষ্ট হয়। এরপর লিখতে হবে ‘‘সূচনা সংবাদ’’। ইংরেজিতে যাকে ‘‘ইনট্রো’’ বলে। সূচনা সংবাদ হলো পুরো সংবাদের সংক্ষিপ্ত সার । সংবাদ লেখার শব্দ ও বাক্য হতে হবে সহজ সরল ও বোধগম্য সংবাদের মধ্যে যিনি যত বেশী তথ্য সংযোজন করতে পারবেন তার সংবাদটি পাঠকের কাছে ততবেশী গ্রহন যোগ্য হবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই একজন সাংবাদিককে সমাজের কাছে গ্রহন যোগ্য করে তুলতে পারে।

লেখক- এস এম সোহেল রানা

সাংবাদিক

smsohelrana1182@gmail.com

*

*

Top