Bhalukanews.com

জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

Sreepur_Risky School-1

গাজীপুর  প্রতিনিধি ঃ ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে, ফেটে গেছে দেয়াল। ভবনের অন্তত ১২টি পিলারেও দেখা দিয়েছে ফাটল।

এমনই একটি জরাজীর্ণ ভবনে চলেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভেরামতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থীদের পাঠদান।

১৯৩৮ সালে ভেরামতলী গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে জাতীয়করণের আওতায় আসে বিদ্যালয়টি। এটি গ্রামের একমাত্র সরকারি শিাপ্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়ের ভবন দুইটি। জরাজীর্ণ ভবনটিতে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির কাস হয়। চতুর্থ শ্রেণির কাস হয় অন্য ভবনে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক ইয়াহ ইয়া ছিদ্দিকী বলেন, বৃষ্টি হলে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের একটি ভবনের প্রতিটি করে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে বেঞ্চগুলো একটি জায়গায় জড়ো করে কোন মতে কাস নিতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক আরও বলেন, সম্প্রতি একটি করে ছাদ থেকে বড় আকারের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে সে সময় শ্রেণিকে কেউ ছিল না। তিনি বলেন, বারান্দার ছাদে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে একটু বৃষ্টি হলেই দেয়াল বেয়ে পানি পড়ে মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়।তিনি আরও বলেন, কাস নেওয়ার সময় তাঁরা সব সময় ভয়ে থাকেন, কখন পলেস্তারা খসে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের শিকেরা বলেন, ভবনের এই অবস্থার কারনে অনেক শিার্থীর অভিভাবক ভয়ে তাঁদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছেন।

সহকারী শিক আতিকুল ইসলাম বলেন, স্কুল ভবনের এই অবস্থার কথা শিা অফিসে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলের শৌচাগারের দেয়াল বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে যাওয়ায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির একাধিক শিার্র্থী জানায়, ঝড়-বৃষ্টি হলে তাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান তাদের বাবা-মা। তা ছাড়া স্কুলের শৌচাগার ব্যবহারে অনুপযোগী হওয়ায় তাদের স্কুলের পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, স্কুলটির একটি ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ। পিলারগুলোর অবস্থা দেখে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। নতুন ভবন তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, এ মাসের ৪ তারিখ ওই স্কুলের মা সমাবেশে গিয়ে স্কুলটির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখেছি। ভবনটি খুবই পুরোনো।ভবনটির কয়েকটি দেয়াল ও ছাদসহ বিভিন্ন জায়গার পলেস্তারা উঠে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

*

*

Top