Bhalukanews.com

ভালুকায় শিশুসহ অপহরনের ১০ঘন্টা পর শিশু তাহিয়া মায়ের কোলে

বাসার গৃহকর্মীর স্বামী কর্তৃক তিন বছরের শিশু অপহরণ

ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই উজ্জল হোসেনের সাহসীকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানে ১০ঘন্টা পর শিশু তাহিয়া তার মায়ের কোলে ফিরে গেল। শিশু তাহিয়া আলম(৩)সহ অপহরণকারী ওমর ফারুক গতকাল শনিবার রাত্র ১০টায় ভালুকার ভরাডোবা ফাঁড়ির সামনে আটক করেছে এ এস আই উজ্জল হোসেন। ভেস্তে গেল অপহরণ কারীদের পরিকল্পনা ও মুক্তিপণ হিসাবে চাওয়া তাদের ৫০লক্ষ টাকার হিসাব।
ভালুকা ভরাডোবা পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই উজ্জল হোসেন বলেন,আমি গতকাল শনিবার(২৭জানুয়ারি) রাত্রে ফাঁড়ির সামনে ডিউটি করার সময় একটি লেগুনায় শিশুটিকে প্রচন্ড কান্না করতে দেখি । সামনে এগিয়ে গিয়ে ওমর ফারুকের কোলে এই শিশুটি কার জিজ্ঞাসা করলে সে উল্টাপাল্টা জবাব দেয় ।তার চেহারার সাথে শিশুটির চেহারার কোন মিল খোঁজে না পাওয়ায় আমার সন্দেহ হয় । তাৎক্ষনিক আমি আমার সঙ্গীদের নিয়ে শিশুটিসহ তাকে ভালুকা থানায় নিয়ে আসি। থানায় আসার পর ওয়্যারলেসে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে জানতে পারি ঢাকার রমনা থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে । পরে রমনা থানায় যোগাযোগ করে তার পরিবারকে জানানোর পর রাত্র ১টার দিকে শিশু তাহিয়া আলমকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদ জানান,অপহরণকারী ওমর ফারুক প্রাথমিকভাবে আমাদের জানায়,সে ও তার স্ত্রী ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা আশরাফুল আলম খান এর বাসায় চাকুরী করতো,পরে আমি অভাবের তাড়নায় তার একমাত্র কন্যাকে অপহরণ করি এবং ৫০লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করি।ওসি মামুন আরও জানান,মেয়েটা কান্নাকাটি করায় ভরাডোবা ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে । রাত্রে রমনা থানা পুলিশের কাছে আসামীকে সোর্পদ করা হয় এবং শিশু তাহিয়া আলম(৩)কে তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।অপহরণ কারী ওমর ফারুকের বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার ধৌবাউরা উপজেলায়।
রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাইনুল ইসলাম জানান,মগবাজারের ওই বাসার মালিকের একমাত্র মেয়ে তাহিয়াকে ওই বাড়ীর গৃহকর্মীর স্বামী শনিবার বিকালে অপহরণ করে । পরে বাসার মালিক আমাদের থানায় একটি মামলা দায়ের করে (নং৩৯তাং২৭-০১-২০১৮)পরবর্তীতে রাত্রে আমরা ময়মনসিংহের ভালুকা থানা থেকে আসামী সহ শিশুটিকে উদ্ধার করি। শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তাস্তর করা হয় এবং আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী ওই বাসায় কাজ করার সুযোগে সে প্রায় প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়ত করতো।

*

*

Top