Bhalukanews.com

বান্দরবানে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার ৭ হাজার গ্রামবাসি

রিমন পালিত: বান্দরবান প্রতিনিধি:বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিছামারা এলাকায় একটি ব্রীজের অভাবে বাঁশের তৈরি সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে কয়েক হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবু থেমে নেই শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষের চলাচল।
জীবিকার তাগিদেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা পরিষদসহ সংসদ সদস্য ও উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
সরজমিন গিয়ে জানা যায়, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিছামারা একটি জনবহুল গ্রাম। নাইক্ষ্যংছড়ি খালের দুই পারে এই গ্রামটিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার লোকের বসবাস। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস এখানে।
দক্ষিণ তাংরা বিছামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শত শত শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র ভরসা বাঁশের তৈরি এই সাঁকো। সম্প্রতি স্কুলে যাওয়ার সময় এই সাঁকো ভেঙে পড়ে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হয়। এছাড়া এখানে নানা ধরনের কৃষিজ পণ্য উৎপাদন হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী এই এলাকাটি চলাচল উপযোগী একটি ব্রীজের অভাবে অন্যান্য এলাকার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
ব্রীজ না থাকায় উৎপাদিত কৃষিজসামগ্রী বাজারজাতকরণে দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। ফলে সময়মতো কৃষিজপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় আর্থিকভাবে লোকসানের মুখোমুখি হন এখানকার ভূক্তভোগী কৃষকরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিছামারা গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচলের জন্য নিজেদের উদ্যোগে এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
বৃষ্টিতে সাঁকো ভিজে চলাচলের সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এমন ঘটনা যেন গা সওয়া হয়ে গেছে সবার। যাতায়াতের এই দুরবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেও এখন কোনো ফল হয়নি। সর্বশেষ বাজেটে উপজেলায় কয়েক কোটি টাকার ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বিছামারার এই গ্রামটি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মীর আহাম্মদ মেম্বর জানান, কয়েক যুগ ধরে এই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকোটি। প্রতিদিন মানুষের চলাচলের সময় দুর্ভোগের শেষ নেই।
তাংরা বিছামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে বিছামারা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসতে বাঁশের সাঁকো পারাপার হতে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। কিছু দিন আগে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসার সময় সাঁকো থেকে পড়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেয়ে ৩ দিন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

*

*

Top