Bhalukanews.com

নতুন সাজে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তিন দফায় সংস্কারেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা! আর কলকাতায় যুব ভারতী স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১০ কোটি রুপি! ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ফের সংস্কার হবে দেশের ১ নম্বর স্টেডিয়ামটি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করলেও প্রকল্পটি পড়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়, ফলে কাজ কবে নাগাদ শুরু করা যাবে- পরিষ্কার বলতে পারছে না এনএসসি।

২০১১ সালে নকআউট বিশ্বকাপের আগে নতুন রূপ দেওয়া হলেও সৌন্দর্য হারায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। বিভিন্ন সময় নামমাত্র কিছু সংস্কার করা হলেও সময়ের সঙ্গে আরও রুগ্ণ হয় জাতীয় স্থাপনাটির অবয়ব। প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উদ্বোধন করবেন প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্ব। গেমসের আগেও নামমাত্র সংস্কার করা হচ্ছে স্টেডিয়াম।

পরিকল্পনা ছিল ৫৩ লাখ টাকায় ভিআইপি বক্সসহ স্টেডিয়ামের কিছু অংশ সংস্কারের। এর মধ্যে রয়েছে চেয়ার প্রতিস্থাপন। কিন্তু গেমসের চূড়ান্ত পর্বের আগে নতুন চেয়ার বসানো সম্ভব নয়, তাই সাধারণ গ্যালারির চেয়ার তুলে ফেলছে এনএসসি। এনএসসির যুগ্ম সচিব শুকুর আলী জানান, ‘বাংলাদেশে এ চেয়ার কেউ বানায় না। স্থানীয় সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই কথা বলেছি।

তাছাড়া হাতেও যথেষ্ট সময় নেই। ফলে আপাতত চেয়ার তুলে গ্যালারিতে রং করে দেওয়া হবে, যেন দর্শক সেখানে বসতে পারেন। ভিআইপি বক্সের টাইলস পরিবর্তন করতে হবে। মিডিয়া সেন্টার ঠিক করতে হবে। এসিগুলো সচল করত হবে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর চেয়ার বসানো হবে।’ চেয়ার বসাতে লাগবে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। শুধু গ্যালারি নয়, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভগ্নদশা গোটা স্থাপনারই।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপজাল) তৈরি শুরু করেছে এনএসসি। ডিপিপি তৈরি করে পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে; এরপর অনুমোদন দেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) প্রজেক্টটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ার বসানোর পর গ্যালারির দর্শক ধারণক্ষমতা কমে গেছে, গ্যালারিতে চেয়ার ১৯ হাজারের বেশি। স্টেডিয়ামটি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্স।

স্টেডিয়ামের মূল কাঠামো ঠিক রেখেই করা হচ্ছে সংস্কারযজ্ঞ। গ্যালারি ও ভিআইপিতে বসানো হবে উন্নতমানের নতুন চেয়ার। ভিআইপি গ্যালারিতে বসানো হবে ফোল্ডিং চেয়ার। বদলে ফেলা হবে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট। তবে ফ্লাডলাইটের টাওয়ার অপরিবর্তিত রেখে শুধু বদলে ফেলা হবে বাতি। ফ্লাডলাইট পরিবর্তন করতে লাগবে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। আর অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক স্থাপনের জন্য ১৫ কোটি টাকার মতো। ফ্লাডলাইট, চেয়ার ও অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকের পাশাপাশি আরও বেশকিছু কাজ আছে এ সংস্কারের আওতায়।

ড্রেসিং রুমগুলো আধুনিকায়ন, খেলোয়াড়দের জন্য জিম সুবিধা বৃদ্ধি, ডোপ টেস্ট রুম নির্মাণ, মিডিয়া সেন্টার আধুনিকায়ন, টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য ক্যামেরা স্ট্যান্ড তৈরি, ড্রেসিং রুমগুলোর উন্নয়ন ও স্কোরবোর্ড ঠিকঠাক। স্টেডিয়ামের চারদিকের রাস্তা আরও উন্নতমানের করা হবে। পুরো স্টেডিয়ামেই লাগবে রঙের ছোঁয়া। বদলে যাবে দেশের ১ নম্বর জাতীয় স্টেডিয়াম।- জনকণ্ঠ

*

*

Top