Bhalukanews.com

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন চাঁদপুরের বিপ্লব

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিপ্লব কুমার দেব। ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ত্রিপুরা রাজ্যের সভাপতিও তিনি। ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি মাসে দলটির ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হন।

বিপ্লবের পরিচয় হচ্ছে তিনি বাংলাদেশি বাবা-মায়ের সন্তান। তার পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেধদাইর গ্রামে। তিনি হিরুধন দেব ও মিনা রানি দেবের একমাত্র ছেলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা ত্রিপুরা চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের বনমালিপুর আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিপ্লব। বিপ্লবের নেতৃত্বে ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছে বিজেপি। বিপ্লব নিজেও একটি আসনে জয়লাভ করেন। শনিবার ত্রিপুরাসহ তিন রাজ্যের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ভারতীয় গণমাধ্যমে বিপ্লব দেবকে ত্রিপুরার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি বুধবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

কচুয়ার মেঘদাইর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘মাস্টার বাড়ি’র কবিরাজ গোবিন্দ চন্দ্র দেবের নাতি বিপ্লব কুমার দেব। কবিরাজ গোবিন্দ চন্দ্র দেবের ৪ ছেলে। তারা হলেন, হারাধন চন্দ্র দেব, হিরুধন চন্দ্র দেব, প্রাণধন চন্দ্র দেব এবং মধুসূদন চন্দ্র দেব। গোবিন্দ চন্দ্র দেবের দ্বিতীয় ছেলে হিরুধন চন্দ্র দেবের সন্তান হলেন বিপ্লব কুমার দেব। বিপ্লব দেব ও তার পরিবার ত্রিপুরা চলে গেলেও তার অনেক আত্মীয় এখনো কচুয়ায় বসবাস করছেন।

বিপ্লব দেবের মেজ চাচা কবিরাজ প্রাণধন দেব কচুয়ার পরিচিত মুখ। তিনি কচুয়া উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি। থানা পুলিশিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

প্রাণধন দেব গণমাধ্যমকে জানান, ‘বিপ্লবকে তার মা বাংলাদেশে থাকাকালে গর্ভধারণ করেছিলেন। তবে ত্রিপুরার মাটিতেই বিপ্লবের জন্ম।’

ত্রিপুরার রাজ্য সভাপতি হওয়ার কিছুদিন আগে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন বিপ্লব। সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসেন তিনি।

এর আগে, গত বছর বিজেপির প্রতিনিধি দলের প্রধান হয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে কচুয়া গিয়েছিলেন ত্রিপুরার হবু এ মুখ্যমন্ত্রী।

মানিক সরকারের পদত্যাগ : ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মানিক সরকার (৬৯)। গত রবিবার দুপুরের দিকে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যটির রাজ্যপাল তথাগত রায়ের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজ্যপাল তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেউ শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত মানিক সরকারকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর কথা বলা হয়েছে।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই মানিক সরকার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমি রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এবং তিনি আমাকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী না আসা পর্যন্ত দায়িত্ব সামলানোর কথা বলেছেন।’

মানিক সরকার আরো বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য আমি সব সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

*

*

Top