Bhalukanews.com

ভালুুকায় গৃহবধুর উপর নির্যাতনের অভিযোগ

ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের ভালুকায় এক গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী ওমর ফারুক(৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিঝুরী গ্রামের। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর আগে উপজেরলার নিঝুরী গ্রামের মো: আবুল কালাম পাঠানের ছেলে মো: ওমর ফারুক পাঠানের সাথে একই উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফারুক সিঙ্গাপুর যাবে বলে ফাতেমার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ফাতেমার সুখের কথা চিন্তা করে জামাই ফারুককে যৌতুক হিসেবে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। ফারুক সেই টাকা নিয়ে বিদেশে যায়। বিদেশ থেকে বেশ কয়েকবার দেশে আসা যাওয়া করে। তখন তাদের সংসার জীবন ভালই চলছিল। এরই মধ্যে তাদের সংসারে আবিদ হাসান ফুয়াদ (১০) ও ফাহমিদা (২) নামে দুটি সন্তান জন্ম লাভ করে।
গত দুই বছর আগে ফারুক বিদেশ থেকে টাকা ছাড়াই দেশে চলে আসে এবং আবারো শ^শুর বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য ফতেমা প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে ফাতেমা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশান জমি বিক্রি করে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা স্বামী ফারুকের হাতে তুলে দেয়। এতেও স্বামী ফারুকের মন ভরেনি।
গত ২১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে ফারুক ও তার পরিবারের লোকজন ফাতেমাকে ব্যাপক মারধর করে। খবর পেয়ে ফাতেমার বড় ভাই মাহমুদ হাসান তাঁকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে ফারুকের বাবা মা ফাতেমার আর কোন সমস্যা হবেনা বলে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারো শুরু হয় টাকার জন্য নির্যাতন।
গত ৯ মার্চ বিকেলে ঘরে আটকে রেখে ফাতেমাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই খবর পান বড় ভাই মাহমুদ।মাহমুদ বিষয়টি পুলিশকে জানান।পরে ভালুকা মডেল থানার এসআই মাসুদ জামালী রোববার রাতে শ^শুর বাড়ি থেকে ফাতেমাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এঘটনায় ফাতেমা বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় স্বামী ফারুক, বোন তাছলিমা ও নাছিমা, শ্বাশুরী হাবিবা ও ভগ্নিপতি গোলাম কিবরিয়া মিন্টুকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
ভালুকা মডেল থানার এসআই মাসুদ জামালী জানান, বাদির স্বামীকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

*

*

Top