Bhalukanews.com

গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সৌদি আরব !

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:বাহুবল উপজেলার ইজ্জতপুর গ্রামের হাফেজ মঈন উদ্দিন দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে অবশেষে বিদেশ পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আকরাম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এক বছর পুর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন বিজ্ঞ আদালত।
সুত্রে জানাযায়, বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের ইজ্জতপুর গ্রামের মঈন উদ্দিন নবীগঞ্জ উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামে মাওঃ আশরাফ আলীর মেয়ে সাইমা বেগম’কে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পরই সাইমা বেগমকে নিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যান প্রবাসী মঈন উদ্দিন। প্রবাসে থাকাকালীন তাদের ঔরষে ৩টি সন্তানের জন্ম হয়।
২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাফেজ মঈন উদ্দিন স্ত্রী সাইমা বেগমকে প্রলোভন দিয়ে বাচ্চাদের সৌদি আরব রেখে দেশে নিয়ে আসেন। দেশে এনে সাইমা বেগমের পরিবারকে যৌতুক হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবী করেন। না দিলে তাকে তালাক দিয়ে তৃতীয় বিয়ে করবে বলে হুমকী দেয়। কিন্তু সাইমা বেগম যৌতুকের টাকা দিতে অপারকথা জানালে মঈন উদ্দিন তার স্ত্রী সাইমা বেগমকে মারপিট করে পিত্রালয়ে বিদায় করে দিয়ে ঢাকাতে তৃতীয় বিয়ে করেন। এ ব্যাপারে সাইমা বেগম হবিগঞ্জ নারী শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত নবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত করে কর্মকর্তা মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাদীর অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই খবর পেয়ে প্রতারক মঈন উদ্দিন সৌদি আরব পাড়ি জমায়। এরই মধ্যে বিজ্ঞ আদালত ১৫/০২/২০১৭ইং তারিখে আসামী মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। সম্প্রতি মঈন উদ্দিন দেশে আসলে আত্মগোপনে থেকে হামিদ নগর মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে বাদীনি সাইমা বেগম বাহুবল থানার পুলিশকে নিয়ে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বাহুবল থানা পুলিশ তাকে আটকানোর জন্য বিমানবন্দরে রিকুজেশন প্রেরন করেছেন। এদিকে সন্তানদের জন্য পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন জননী মা সাইমা বেগম। সাইমা বেগম প্রতারক মঈন উদ্দিনকে গ্রেফতারের জন্য বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।

 

*

*

Top