Bhalukanews.com

নবীগঞ্জে নার্স ও আয়ার অপ-চিকিৎসায় শিক্ষিকা প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর দেড়মাস অতিবাহিত হলেও, সুবিচার বঞ্চিব পরিবারের লোকজন

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ও আয়ার ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিকিা প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হলেও ঘটনাটি এখন ধামাচাপা পড়ে গেছে। মৃত্যুবরনকারী শিক্ষিকার পরিবারের লোকজনের সরলতার সুযোগে ঘটনার প্রায় দেড়মাস অতিবাহি হলেও এর জন্য দায়ী মুল আসামী আয়া নমিতা আচার্য্য, সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি বালা ও চন্দনা দেব নামমাত্র শাস্তি পেয়ে হত্যার দায় থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও নবীগঞ্জের সচেতন মহল তা মেনে না নিয়ে ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন। মর্মান্তক এ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে জড়িত লোকজন দৌড়ঝাঁপ করে তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে নিয়েছেন বলে বিশ্বস্থ সুত্রে জানাগেছে। এদিকে, এরুপ অপ-চিকিৎসায় শিকিা মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা শিক সমিতির উদ্যোগে মানবন্ধন করেন এবং নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী তোলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্ধা এবং উপজেলার রোকনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিকিা ৬ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের জননী সুফলা রাণী দাশ (৩৩) এর গভবর্তী অবস্থায় গত ২৮ শে মার্চ প্রসবের ব্যথা শুরু হলে তাদের প্রতিবেশি নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া নমিতা রানী আচার্য্যর পরামর্শ মতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে প্রসূতির সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীা করে ডেলিভারীর কার্যক্রম শুরু করেন এবং এই হাসপাতালেই ভালভাবে সন্তান প্রসব হবে এতে কোন ডাক্তারের প্রয়োজন হবে না বলে আয়া নমিতা আচার্য্য, সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি বালা ও চন্দনা দেব তাদেরকে নিশ্চয়তা দেন। বিষেশজ্ঞ কোন চিকিৎসক ছাড়াই তারা তিন জনের সমন্বয়ে শুরু করেন ওই প্রসূতির ডেলিভারীর কাজ। এ সময় প্রসব ব্যথায় বেকুল প্রসূতির সুফলা অসহ্য হয়ে ছটফট ও হাউ মাউ করে কান্নাকাটি করলে তারা তাকে শান্তনার স্থলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি প্রসূতির গলা শুকিয়ে ওষ্টগত হওয়ার ফলে তাদের কাছে পানি চাইলে তারা কোন কর্ণপাত করেননি বরং ডেলিভারীর কাজ অসমাপ্ত রেখে হাসপাতালের অন্য রোগীদের পাশে গিয়ে সময় দেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের দায়ীত্বরত চিকিৎসক চম্পক কিশোর সাহা সুমন এসে পরীক্ষার পর প্রসূতির অবস্থ স্বাভাবিক রয়েছে বলে মাকে শান্তনা দেন এবং এ কথা বলে তিনি জরুরী বিভাগে চলে যান। এরই মধ্যে প্রসূতির গর্ভের সন্তান অর্ধেক ভূমিষ্টের পথে। কিন্তু আয়া ও নার্সরা প্রসূতির সন্তানকে কোন ভাবে উদ্ধার করতে না পেরে ‘কেচি দিয়ে কেটে’ নবজাতককে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। যার ফলে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্ত রণ হয়। ভুল চিকিৎসার কারনে এরই মধ্যে সুফলার মৃত সন্তান প্রসব করেন তারা। তার অবস্থার বেগতিক দেখে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর দায়ভার এড়াতে কৌশলে তারা সন্ধ্যা ৭টার দিকে রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে পথিমধ্যে আউশকান্দি সংলগ্ন স্থানে পৌছলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রসূতি সুফলা রাণী দাশ। পরদিন নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও,নার্স ও আয়ার চিকিৎসার অভহেলার করনে শিক্ষকার মৃত্যুর সংবাদটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের । তখন এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদ জানান, স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেেিত আয়া ও নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও তদন্তে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন সুচিন্ত্য চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। গত ৪ এপ্রিল মৃত্যুবরনকারী শিক্ষিকার ভাই সুজন দাশ বাদী হয়ে সুবিচার চেয়ে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়েরের ফলে গত ২৩ এপ্রিল হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন সত্যজিত রায় বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তের সময় সাক্ষী গ্রহনকালে তিনি চিকিৎসক,নার্স ও আয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময়ও অপচিকিৎসায় মৃত্যুবরনকারী শিক্ষিকার সুফলা দাশের মা ও ভাই পুনরায় সুবিচার প্রার্থনা করেন। কিন্তু তদন্তের পর পরই সুচতুর আয়া নমিতা আচার্য্য, সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি বালা ও চন্দনা দেব তদন্ত প্রতিবেদন হালকা করে তাদের পক্ষে নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন মহলে দৌড়ঝাপ করেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন নবীগঞ্জ হাসপাতালে আসলে দেখা যায় ঘটনার মুল আসামী আয়া নমিতা আচার্য্যকে আজমিরীগঞ্জে বদলী এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি বালা ও চন্দনা দেবকে সতর্ক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সুবিচার প্রার্থনাকারী ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজনের আশার কোনরুপ প্রতিফলন ঘটেনি।
নবীগঞ্জ হাসপাতালের আয়া নমিতা রানী আচার্য্যসহ অন্যান্য আয়া ও নার্স তাদের বাসায় চেম্বার খোলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসংখ্য অবৈধ গর্ভপাত ঘটিয়ে ও অন্যান্য অবৈধ চিকিৎসা করে নবীগঞ্জে বিলাসবহুল বাড়ী নির্মান করে আঙ্গল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন বলে বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে মৃত্যুবরনকারী শিক্ষিকা সুফলা দাশের ভাই সুমন দাশ ও সুজন দাশ বলেন,সিভিল সার্জন মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়ে আমরা সুবিচার পাইনি। চিকিৎক,আয়া ও নার্সেও ভুল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুবরনকারী বোনের ঘটনার সুবিচার চেয়ে এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রী,স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের নিকট অভিযোগ প্রেরন করব। প্রয়োজনে কোর্টে মামলা দায়ের করব। যাতে করে এভাবে অপচিকিতসায় আর কোন মা বোনের মৃত্যু না হয়।

নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জে ইয়াবাসহ আনসার পুলিশের খাঁচায় আটক
উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ীর পুলিশ ৫২ পিস যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আনসার উদ্দিন (৪০ কে গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মহিম উদ্দিনের পুত্র। পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত আনসার উদ্দিন একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং সেবনকারী। একাধিকবার সে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করেছে। এরপর থেকেই সে পুলিশের নজরধারীতে রয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার সময় গোপন সংবাদেও ভিত্তিতে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ীর পুলিশ পরিদর্শক সামছুদ্দিন খাঁন,এসআই এমরান ও এ এসআই বিশ^জিৎ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে ইনাতগঞ্জ পূর্ব বাজার মসজিদ এর নিকট থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ীর পুলিশ পরিদর্শক সামছুদ্দিন খাঁন সত্যতা নিñিত করে জানান,মাদক বিক্রয় এবং ব্যবহারকারীদের কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবেনা। এদেও বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

*

*

Top