Bhalukanews.com

শপথ নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সরকারী গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

 

কে. এম. রুবেল, ফরিদপুর:- ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারী রাস্তার পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড় ৩টি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারী গাছ কেটে নেবার ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাষী অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান শপথ নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সরকারি গাছ কেটে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করলেও গাছ গুলো কোথায় রাখা হয়েছে তা দুজনের কেউই বলতে পারেননি।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর-শিবরামপুর সড়কের এলজিইডি’র সড়কের পাশে ১৯৮৬ সালে লাগানো বেশ কিছু মোটা আকারের মেহগনি গাছ রয়েছে। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহ আগে ঝড়ে ২টি গাছ পড়ে যায় এবং কালভার্ট নির্মানের জন্য ১টি গাছ কেটে রাস্তার পাশে রাখা হয়। রবিবার রাতে তিনটি মেহগনি গাছ নসিমনে করে নিয়ে যায় মাচ্চর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার রশিদ মোল্যা। স্থানীয়রা গাছ গুলো নিতে বাঁধা দিলে রশিদ মোল্যা তাদের বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ মুন্সী গাছ গুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিতে বলেছেন। স্থানীয়দের বাঁধা সত্বেও রশিদ মোল্যা গাছ গুলো নিয়ে যায়। খলিলপুর এলাকার মনিরউদ্দিন মল্লিক জানান, রাস্তার পাশে বড় আকারের তিনটি মেহগনি গাছ ছিল। সে গুলো রশিদ মেম্বার নিয়ে যায়। আমরা বাঁধা দিলে সে চেয়ারম্যানের কথা বললে আমরা আর কিছু বলিনি। তিনি জানান, তিনটি গাছের আনুমানিক মূল্য হবে কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মনিরউদ্দিন মল্লিকের বাড়ীর সামনে, শাহজাহানের বাড়ীর সামনে এবং সবেশ্বরের পুকুর পাড়ে তিনটি মেহগনি গাছ ছিল। যার মধ্যে দুটি ঝড়ের কারনে পড়ে যায়। আরেকটি উন্নয়ন কাজের জন্য কাটা হয়। তিনটি গাছ মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েক ব্যক্তি রাতের আধারে নিয়ে যায়। গাছ গুলো কোথায় নেয়া হয়েছে তা আমরা জানিনা। তবে শুনেছি মেম্বার গাছ গুলো বিক্রি করে দিয়েছে। এদিকে, সোমবার দুপুরে মাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাটা গাছ গুলো রাখার চিহৃ দেখা যায়নি।
১নং ওয়ার্ডের মেম্বার রশিদ মোল্যা বলেন, গাছ গুলো তাকে কেটে নিতে বলেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ মুন্সী। তার কথায় গাছ গুলো কেটে লোক দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। গাছ গুলো কোথায় রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রশিদ মেম্বার বলেন, সেটি চেয়ারম্যান সাহেব জানেন।
গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে মাচ্চর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ মুন্সী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে গাছ গুলো কেটে এক স্থানে রাখার কথা। সেখান থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ গুলো বিক্রি করা হবে। বর্তমানে গাছ গুলো কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গাছ গুলো মেম্বারের হেফাজতে রাখা হয়েছে। যদিও রশিদ মেম্বার গাছ গুলো তার কাছে নেই দাবী করে বলেন, আমার উপস্থিতিতেই চেয়ারম্যানের লোকদের কাছে গাছ গুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, গাছ কেটে নেবার বিষয়টি সোমবার দুপুরে জানার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। যারা গাছ কেটে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রভাংষু সোম মহানের সাথে কথা হলে তিনি ঢাকায় জরুরী মিটিংয়ে আছে জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

*

*

Top