Bhalukanews.com

গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

অল্প সময়, অল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে,মিলেমিশে থাকি ভাই, ন্যায় বিচার পেতে গ্রাম আদালতে যাই – বিভিন্ন শ্লোগান নিয়ে জেলা প্রশাসন , পটুয়াখালী এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর আযোজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল হাফিজ এর সভাপতিত্বে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হেমায়েত উদ্দিন। গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর সৈকত মজুমদার সৌরভ এবং কমিউনিকেশন এন্ড আউটরিচ স্পেশালিস্ট অর্পণা ঘোষ। এছাড়া মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন র্ব্যানাজী,সহ-সভাপতি মুফতী সালাউদ্দীন,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জালাল আগমেদ,সিনিয়র সদস্য নির্মল কুমার রক্ষিত,সদস্য আবদুস সালাম আরিফ,সাংবাদিক মুজাহিদ প্রিন্স, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা সমন্বঢকারী শফিউল আজম,দৈনিক সাথী পত্রিকার সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার হোসেন, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন,গলাচিপা প্রেসক্লাবের সাইফুর রহমান এলিট, বাউফলের জি এম মিজানুর রহমান প্রমুখ। গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালী সদর , মির্জাগঞ্জ, বাউফল এবং গলাচিপা উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী অংশগ্রহন করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জনাব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন, জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত), পটুয়াখালী তার বক্তৃতায় বলেন, গ্রামে অনেক ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষ তার প্রতিকার চাইতে থানা বা জেলা আদালতে আসেন, যাতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তিনি জানান, গত জানুয়ারি ২০১৭ থেকে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প পটুয়াখালী জেলার ০৪টি উপজেলার (পটুয়াখালী সদর, বাউফল, গলাচিপা এবং মির্জাগঞ্জ) ৪৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পভুক্ত এ সব ইউনিয়নে গত জুলাই ২০১৭ থেকে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত ১,৬৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে যার মধ্যে ৯৯৮টি মামলা (৫৯%) নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ২,১৫,০৭,১৩৮ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিগণকে আদায় করে দেয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আরো জনসচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের কমিউনিকেশন এন্ড আউটরিচ স্পেশালিস্ট অর্পণা ঘোষ জানান, প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে, বাউফলের ১৫টি ইউনিয়ন, গলাচিপায় ১২টি ইউনিয়নে ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মোট ৪৫টি ইউনিয়নসহ দেশের ৮টি বিভাগের ২৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলার ১,০৮০টি ইউনিয়নে প্রকল্পের নিজস্ব কার্যক্রম, স্থানীয় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সহায়তায় গ্রামীন জনগনের মাঝে গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করে স্থানীয় জনগণ বিশেষকরে নারী, দরিদ্র ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠী অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে পারে এবং নিজেদের মধ্যকার বিরোধগুলো স্থানীয় পর্যায় দ্রুততম সময়, স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছতার সাথে নিষ্পত্তি করতে পারে তার জন্য গ্রাম আদালত কাজ করছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১,০৮০টি ইইনয়নে গ্রাম আদালতে জুলাই ২০১৭ইং হইতে মার্চ ২০১৮ইং পর্যন্ত নয় মাসে ৩৬,৯৫৮টি আবেদনের মধ্যে ২৪,১১৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ২ কোটি ২৪লক।স ২৭হাজার ১৫৫টাকা ক্ষতিপূরন আদায় হয়েছে।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প, ইউরোপিয়ার ইউনিয়ন, জাতিসংঘ উন্নয়ণ কর্মসূচি(ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রণালয় দেশের ৮টি বিভাগের ২৭টি জেলার ১০৮০টি ইউনিয়নে এই প্রখল্প কাজ করছে।
#

*

*

Top