Bhalukanews.com

রাঙ্গাবালীতে স্লুইজগেট বন্ধ করে মাছ চাষ

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা গ্রামের নতুন বেরি-বাঁধের মাঝখানে স্লুইজ গেটে ফাঁদ পেতে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান রানা হাওলাদার নামের স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন দিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর কৃষকদের জিম্মি করে মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্লুইজ গেটে ফাঁদ দিয়ে লবনাক্ত পানি ঢুকে ওই এলাকার ইরি ধানের মাঠ ও মিঠা পানির পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে মিঠা পানির সঙ্কট, ইরি ধানের মাঠের ক্ষতি এবং বাঁধ ধসে পরার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
জানাগেছে, উপজেলার চরলতা গ্রামের রামনাবাদ নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ভেরি-বাঁধ গত বছর ভেঙ্গে গেছে। ওই ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়। গত এপ্রিল মাসে চরলতার স্থানীয় কৃষকরা মিলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙ্গা অংশ সংস্কার করে। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা রানা হাওলাদার ওই সংস্কারকৃত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাঝখানের স্লুইজে লোহার প্লেট বসিয়ে মাছের ফাঁদ তৈরি করেছে। গত ১মাস ধরে ওই ফাঁদে রামনাবাদ নদীর জোয়ারের লবনাক্ত পানির সাথে উঠে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে তারা। লবনাক্ত জোয়ারের পানিতে চরলতা গ্রামের ইরি ধানের ক্ষেত এবং ওই এলাকার অর্ধশতাধিক মিঠা পানির পুকুর লবনাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মিঠা পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং ইরি ধান চাষ করতে পারছে না কৃষকরা। এছাড়া চর লতার সমস্ত স্লুইজ গেট তার নিয়ন্ত্রনে থাকার কারনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ভেরি-বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন চরলতায় স্লুইজ গেটে ফাঁদ পেতে মাছ শিকার বন্ধ করার কথা জানালেও প্রভাবশালীরা তা মানছে না। তারা প্রতিদিন দিনে-রাতে মাছ শিকার করছে। লবনাক্ত পানির কারণে ইরি ধান চাষ করতে পারছে না বলে জানান কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক মোঃ হাসেম মিয়া জানান, নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাঝখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্লুইজ গেটে লোহার প্লেড বসিয়ে মাছের ফাঁদ তৈরি করে রামনাবাদ নদীর জোয়ারের লবনাক্ত পানি উঠাচ্ছে এবং মাছ শিকার করছে। তারা আরও জানান, লবনাক্ত পানি ঢুকে এলাকা তলিয়ে গেছে এবং মিঠা পানির পুকুরে লবন পানি ঢুকে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পরেছে। এতে এলাকায় মিঠা পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কৃষক কামাল ও হেলাল জানান, লবন পানির কারণে ইরি ধান চাষ করতে পারছি না।
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান হাওলাদার জানান, স্থানীয় লোকদেরকে চরলতা খালে মাছ ছাড়তে ও লবন পানি উঠাতে মানা করেছি। এবছর চর লতার সমস্ত খাল ও স্লুইজ গেট জনগোনের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে। তারপরে যদি চরলতার ভেরি-বাঁেধর স্লুইজ গেট বন্ধ রেখে মাচ চাষ করে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।
রাঙ্গাবালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আঃ মন্নান জানান, যারা চরলতা বিভিন্ন খালে মাছ চাষ ও স্লুইজ গেট দিয়ে লবনাক্ত পানি ঢোকাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খালে ঝাহি জাল দিয়ে জনগোন মাছ শিকার করবে। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়রের সমস্ত স্লুইজ গেট ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

*

*

Top