Bhalukanews.com

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধের মধ্যে চলছে নিয়োগ বোর্ড

ইবি প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড চলছে। একদিকে বোমাবাজির প্রতিবাদে প্রক্টরের কালো হাত ভেঙ্গে দেয়ার শ্লোগানে কম্পিত ক্যাম্পাস অপরদিকে পুলিশের সশস্ত্র মহড়া। দুই মিলে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগে ২৫ লাখ ও কর্মকর্তা প্রতি ১৫ লাখ ও কর্মচারী প্রতি ১০ লাখ টাকা করে বাণিজ্য করছেন প্রো-ভিসি ও প্রক্টর। ভিসি’র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন প্রক্টর। ভিসির লেনদেন প্রক্টর মাহাবুবুর রহমানের সাথে করতে হচ্ছে বলে সূত্র দাবী করেছে। ইবি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত নিয়োগ বোডের্র ঘোষণা দেন ইবি প্রশাসন। বিভিন্ন বিভাগে ৩১ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বানিজ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি চলে যান ক্যাম্পাসে। শহরের হাউজিংয়ের বাড়ি ফেলে তিনি ক্যাম্পাসে গিয়ে অবস্থান করতে থাকেন। এদিকে প্রক্টর মাহাবুবুর রহমানের সাথে লেনদেন করা প্রার্থী কর্মচারী ( কম্পিউটার অপারেটর) আলো নকলসহ নিয়োগ পরীক্ষায় ধরা পড়লেও তাকে মৌখিক পরীক্ষায় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেয়া হয়। সূত্র বলছে ওই আলো (ডাকনাম) তাকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের পোষ্টধারীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে এই নিয়োগে। ভিসি এবং প্রক্টরের বাড়ি উত্তরবঙ্গে হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বানানোয় ব্যস্ত ভিসি ও প্রক্টর। অধিকাংশ চাকুরীর জন্য আবেদনকারীরা উত্তরবঙ্গের। এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার দুইজন ব্যতীত অন্য কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ড চালিয়ে ভিসি ও প্রো-ভিসি জামায়াতপন্থীদের নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ আসকারীর বিরুদ্ধে ভিসি হওয়ার পূর্বে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে। বাংলাদেশের মোষ্ট ওয়ান্ডেড আইএসআই এজেষ্ট মাসকাওয়াথ আহসান ভিসি’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা গেছে। এদিকে নানা অকর্মের নায়ক প্রো-ভিসির এক সময় নিজেই ভিসি প্রক্টরসহ একাধিক শিক্ষকের নামে মানহানি মামলা করেছেন যা বিচারাধীন। কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করায় তাকে চাঁদাবাজি মামলা ফাঁসিয়ে দেন প্রো-ভিসি ডক্টর শাহিনুর রহমান। এ ব্যাপারে প্রক্টর মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়োগ হচ্ছে যোগ্যতার ভিত্তিতে। প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই। এব্যাপারে ভিসি হারুন অর রশিদ আসকারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

*

*

Top