Bhalukanews.com

নির্বাচনে যাকে প্রার্থী করব তার পক্ষে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচনে যাকে আমরা প্রার্থী করব তার পক্ষে সকলকে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের এখন থেকে জনগণের কাছে যেতে হবে নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার জন্য। কে প্রার্থী, কে প্রার্থী নয় সেটা বড় কথা না। নৌকা মার্কায় ভোট পাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে।’

আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকায় মার্কায় ভোট পেলেই এ দেশের মানুষ সব পায়। ভাষার অধিকার, স্বাধীনতা, দারিদ্র্য মুক্তি, শিক্ষার আলো, রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজ সব পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দেশের উন্নয়ন করছি। আজকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘নির্বাচন মানেই চ্যালেঞ্জিং সব সময় প্রার্থীদের মাথায় রাখতে হবে। তাই আমাদের এই একটানা তৃতীয় নির্বাচনে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যে কেউ কেউ স্বতঃপ্রাণোদিত হয়ে প্রার্থী হয়ে গেছে। তারা প্রার্থী হয়ে বিএনপি যে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টি করলো তাদের বিরুদ্ধে বলে না। তার বক্তব্যে এসে যায় আওয়ামী লীগ এমপির বিরুদ্ধে, সংগঠনের বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সারা দিন রাত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি কিভাবে দেশের উন্নয়ন করব।’ আর এই উন্নয়নের কথা না বলে যারা কোথায় কার দোষ আছে সেগুলো জনগণের কাছে বলছেন তারা আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত কাজ আমরা করেছি, যেভাবে দেশের উন্নয়ন আমরা করেছি এই উন্নয়ন করার ফলে কোন মতেই মানুষ যে নৌকায় ভোট দেবে না তা কিন্তু হয় না। তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারা তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। কারণ আপনারা সঠিকভাবে মানুষের কাছে যেতে পারেননি, বোঝাতে পারেননি, সেবা দিতে পারেননি। সেইজন্যই, নইলে এখানে তো হারার কোন কথা না। কারণ এত উন্নয়ন বাংলাদেশে কোন সরকার করেনি। তাহলে কেন অন্য দল ভোট পাবে। কেন এই বিএনপি যারা এই দেশে হত্যা, খুন, মানুষ পুড়িয়ে মারা, এতিমের টাকা মেরে খাওয়া যারা জুয়া খেলে নাকি অর্থ উপার্জন করে-এই সমস্ত কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তারা কেন ভোট পাবে, সেই দল কেন ভোট পাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেন ভোট পাবে সেই দল কেন ভোট পাবে। তাই এখানে আপনাদের বিরাট দায়িত্ব। আজ আমাদের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। একটু স্মরণ করে দেখেন কত মানুষ প্রাণ দিয়ে গেছে এই সংগঠন করতে যেয়ে, দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে, জনগণের ভাতের আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে। তাই তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে আপনাদের কাজ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আর্থিকভাবে দেশের মানুষ এখন স্বচ্ছল হচ্ছে। তারা আরও স্বচ্ছল হোক আমরা চাই। তাই সেটা মনে রেখে তাদের জন্য আপনাদের কাজ করতে হবে, জনগণের কাছে যেতে হবে। উন্নয়নের যে কাজগুলো করেছি তা একটা একটা করে মানুষের কাছে যে বলতে হবে আপনার জন্য আমরা এটা করেছি আরও করে দেব।’

একটা মানুষও দরিদ্র, গৃহহারা, বিনা চিকিৎসায় ও নিরক্ষর থাকবে না বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঠিক সেই বাংলাদেশ গড়বো যে বাংলাদেশ জাতির পিতা চেয়েছিলেন। ক্ষুধা মুক্ত ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। সেই লক্ষ্যে আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা শুরু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, তাই আমরা যেন কোনো মতেই পেছনে ফিরে না তাকাই। কিন্তু যদি বিএনপি, যুদ্ধপরাধীরা আর জামায়াত ক্ষমতায় আসে তাহলে এই দেশকে তারা ধ্বংস করবে। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। যে উন্নয়ন আমরা করেছি সেসব লুটপাট করে খেয়ে ফেলবে। তাই সেদিকে মাথায় রেখেই সবাইকে কাজ করতে হবে।’

*

*

Top