Bhalukanews.com

ইংল্যান্ডের পর সেমিতে ক্রোয়েশিয়া

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়ার সেমিফাইনাল স্বপ্নে প্রাণ ফিরিয়েছিলেন মারিও ফের্নান্দেস। আবার সেই স্বপ্নের প্রাণহানির কারণও এই রাইটব্যাকই। টাইব্রেকারে বল যে মারলেন বাইরে! এই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ভাগ্য। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে গোল আরো হলেও ফল হলো না। ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে আর তাতে ৪-৩ গোলে জিতে ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে গেল ক্রোয়েশিয়া। সোচিতে স্বাগতিকদের উত্সব প্রস্তুতিতে ক্রোয়াটরা জল ঢেলে দেওয়ার আগেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ডও। রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে সম্ভাবনার পাল্লা দুই দলের দিকেই শেষ পর্যন্ত দুললেও সুইডেনের বিপক্ষে ইংল্যান্ড সে অবকাশ তেমন রাখেনি। ২-০ গোলে জিতে তারা ১১ জুলাই রাত ১২টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আরেকবার টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায় উতরে যাওয়া লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচদের ক্রোয়েশিয়ার।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজের নিয়মিত কলামে (যা কালের কণ্ঠেও ছাপা হচ্ছে) আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মারিও কেম্পেস লিখেছিলেন, ইংল্যান্ড-সুইডেন ম্যাচটা হবে দাবা খেলার মতো। একটু বদলে গেল কেম্পেসের ভবিষ্যদ্বাণীটা। ছক ও ঘুঁটির খেলা দাবা খেলতে হয় মাথা খাটিয়ে। আর ইংল্যান্ডই শুধু নয়, সোচির কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়াও খেলল মাথা দিয়ে! হ্যারি ম্যাগুয়ার ও ডেলে আলীরা হেডে লক্ষ্যভেদ করে যেমন ইংল্যান্ডকে ২৮ বছর পর নিয়ে গেলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, তেমনি রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচও টাইব্রেকারে গড়ায় হেড থেকে হওয়া তিন গোলেই। প্রথমে পিছিয়ে পড়া ক্রোয়াটরা সমতায় ফেরে আন্দ্রেই ক্রামারিচের হেডে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে হেডে দোমাগোই ফিদার লক্ষ্যভেদে ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া যখন সেমিফাইনালে পা রাখার প্রহর গুনছিল, তখনই সমতা ফেরায় রাশিয়া। ফের্নান্দেসের করা সমতাসূচক সেই গোলটিও হেডে করা। টাইব্রেকারে তাই মুখোমুখি হয়ে যান শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পেনাল্টি শুটআউটে নিজ নিজ দলকে পার করা ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক ডানিয়েল সুবাসিচ এবং রাশিয়ার ইগোর আকিনফেভ। এবারের লড়াইয়ে তাঁদের কেউ জেতেননি, একটি করে শট ঠেকিয়ে দুজনেই থাকেন সমতায়। রাশিয়ার গোলমালটা বাধিয়ে দেন আসলে দলকে টাইব্রেকারে নিয়ে আসা ফের্নান্দেসই। স্নায়ুর চাপের কাছে হার মেনে বল মেরে দেন বাইরে, সেটিই বিশ্বকাপ থেকে রাশিয়াকে ছিটকে বের করে শেষ চারে পৌঁছে দেয় ক্রোয়েশিয়াকে।

১৯৯৮-র বিশ্বকাপে প্রথমবার ক্রোয়েশিয়া নামে খেলতে গিয়েই শেষ চারে পৌঁছা ডেভর সুকেরের দল হয়েছিল তৃতীয়। এত দিন পর লুকা মডরিচের দলও আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। দেনিস চেরিশেভের গোলে পিছিয়ে পড়া ক্রোয়াটরা প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে আন্দ্রেই ক্রামারিচের গোলে। অতিরিক্ত সময়ে মডরিচ দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথ খোলেন। কর্নার আদায় করে নেওয়ার পর নিজেই এগিয়ে যান সেটি নিতে। ম্যাচের ১০১ মিনিটে সেই কর্নারে উড়ে আসা বলেই মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে নেন ফিদা। তবে ১১৫ মিনিটে আলান জাগোভের ফ্রি কিকে উড়ে আসা বলে হেড করে ফের্নান্দেসই বিশ্বকাপে রাখেন রাশিয়াকে। এরপর টাইব্রেকারের সেই অবিশ্বাস্য মিস!

সোচির এই ম্যাচে টানটান উত্তেজনা থাকলেও ১৯৯০-এর ইতালি বিশ্বকাপের পর কখনোই বিশ্বকাপের শেষ চার অবধি না পৌঁছানো ইংল্যান্ডের সেমিতে যাওয়া অত কঠিন করে তুলতে পারেনি সুইডিশরা। সম্ভাবনার মশালের হাতবদল হয়েছে কয়েকবার। হাতছানি দিয়েছে সোনালি প্রজন্ম। ডেভিড বেকহ্যাম থেকে শুরু করে ফ্রাংক ল্যাম্পার্ড, ওয়েইন রুনি, মাইকেল ওয়েন, স্টিভেন জেরার্ড…কত তারকাই তো বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ক্লাব দলের জার্সি বদলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলতেই তাঁদের সব জাদুকরী উধাও! ফল, উচ্চাশার পিছু ধাওয়া করে আসে হতাশা। বারবার। তবে এবার হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে গ্যারেথ সাউথগেটের দলটা বোধ হয় অন্যকিছুই করতে যাচ্ছে। দলটা তারুণ্যনির্ভর, গত ম্যাচেই তারা কাটিয়েছে টাইব্রেকারের ভূত। কাল সুইডিশদের হারাতে অতটা পথ পাড়ি দিতে হয়নি তাদের। ২-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড। জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা স্পাইডারম্যানের তিনটি পর্বেই নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন টোবি ম্যাগুয়ার। তাঁর নামের সঙ্গে বেশ মিল ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রথম গোলদাতা হ্যারি ম্যাগুয়ারের। অ্যাশলে ইয়ং কর্নার নিচ্ছেন, তখন হ্যারির কানে কানে কী যেন বলেছিলেন আরেক হ্যারি, হ্যারি কেইন। হয়তো বলেছিলেন, ‘ওরা আমাকে সামলাবে, এই সুযোগে তুমি ঝাঁপাবে।’ হয়েছেও তাই। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির লেস্টারশায়ার ডিফেন্ডার ম্যাগুয়ার লাফিয়ে মাথা ছুঁইয়ে কর্নার কিক থেকে বলটাকে পাঠিয়ে দেন জালের ভেতর। গত আগস্টে প্রথম জাতীয় দলে ডাক পাওয়া, এটাই তাঁর প্রথম কোনো বড় আসরে খেলা আর কোয়ার্টার ফাইনালে করলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোল। চতুর্থ ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেশের হয়ে প্রথম গোলটা করেছেন ম্যাগুয়ার। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব আছে রিও ফার্ডিনান্ড, অ্যালান মুলালি ও ডেভিড প্ল্যাটের। ৫৮ মিনিটে জেস লিনগার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে গোল করে স্কোরশিটে নাম তোলেন ডেলে আলীও। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মাইকেল ওয়েনের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা টটেনহামের এই মিডফিল্ডার। সুইডেনও নষ্ট করেছে বেশ কিছু সুযোগ, গোলবারে জর্ডান পিকফোর্ডও করেছেন দারুণ কিছু সেভ। বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে এটাই প্রত্যাশিত। তবে অপ্রত্যাশিত বোধ হয় পায়ের খেলায় দুটি গোলই মাথা দিয়ে করে ২৮ বছর পর ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়া! – কালের কণ্ঠ

*

*

Top