Bhalukanews.com

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন চলছে

ঢাকা: গতকাল রোববার বিকাল চারটার দিকে হাইাকোর্টের বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমান একুশে বই মেলার নন্দিতা প্রকাশ এর স্টলের সামনে এসে হাজির। তিনি জানালেন উদিয়মান লেখক-পাঠকদের উৎসাহ দিতেই তিনি প্রতিবছর মেলায় আসেন। তিনি এসেই কয়েকজন লেখকের সঙ্গে কথা বলেন। সেইসঙ্গে কলকাতার লেখক বন্দ্যোপাধ্যায় ঝুমার কাব্যগ্রন্থ ‘জলপাখি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি নিজে কয়েকজন পাঠককে নিজের অটোগ্রাফ সমৃদ্ধ বই উপহার হিসেবে তুলে দেন। বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের আগমনে এখানে হাজির হন কয়েজন লেখক। তাদের মধ্যে ছিলেন ‘চোখের ভেতর অচেনা নদী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক এবিএম সোহেল রশিদ, কাব্যগ্রন্থ ‘জল ধুয়ে যায় জলের’ আনোয়ার মজিদ, কাব্যগ্রন্থ ‘ঢেউয়ের মিনার‘র’ সফি উল্লাহ আনসারী প্রমুখ। বিচারপতি জানালেন, উদিয়মান লেখকরা যাতে অনবরত লিখেই যায় তাই আমি চাই। দেশ যেন মেধাশুন্য না হয়। প্রকাশক জানালেন, ইতোমধ্যেই তার প্রকাশনা থেকে ৯১টি বই মেলায় চলে এসেছে। বাকী গুলো শিগগিরই আসবে।
গতকাল মেলাজুড়ে বেশিরভাগ স্টলেই ছিল বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। কিন্তু মিলেনি কাঙ্খিত ক্রেতা। বিক্রেতারা বলছেন, এখন পাঠকরা আসছেন, দেখছেন। কেনা শুরু করবেন আরও কয়েকদিন পর। এছাড়া সব বই এখনও এসে পৌছায়নি।
মেলার তৃতীয়দিনে বিকাল চারটা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনায় অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, মাহফুজা খানম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং আতিউর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যায় ছিল কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রকাশকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মেলার তৃতীয় দিন প্রতিটা প্রকাশনী সংস্থা থেকে কমবেশি নতুন বই এসেছে। তৃতীয় দিনে বাংলা একাডেমিতে নতুন বই জমা পড়েছে ১৩৮টি। প্রথম দিন নতুন বই জমা পড়েছিল সাতটি। দ্বিতীয় দিনে ৮১টি। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়।
গতকাল বিকেল ৫টার দিকে দেখা যায় অনেকেই স্টল খুলে বসে আছেন। অনেক ক্রেতাই বাই উল্টেপাল্টে দেখছেন। খুব অল্প সংখ্যক ক্রেতাই বই কিনছেন।
বিক্রেতারা জানান, শুক্র শনি দুই দিন ছুটি থাকায় ক্রেতা দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। শনিবার শিশু প্রহর থাকায় অনেকেই শিশু সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন। রোববার অফিস থাকায় অনেকেই অফিস সেরে সন্ধ্যার দিকে মেলায় আসবেন।
একজন পাঠক জানান তিনি বসে আছেন ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের জন্য। তিনি আরো কদিন পর মেলায় আসবেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। প্রকাশকরাও ব্যস্ত আছেন তাদের মেলায় আসতে থাকা বই নিয়ে। এখনো অনেক বইয়ের কাজ বাকি।
মেলার তৃতীয় দিনে লিটলম্যাগ চত্বর অনেকটা গুছিয়ে এসেছে। তবে এই চত্বরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হতাশ সম্পাদকরা। এবার মেলায় ১৫৫টি লিটলম্যাগ স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। অল্প জায়গায় এতগুলো স্টল বরাদ্দের কারণে অন্যবারের মতো দর্শনার্থীদের জন্য ঘুরে বেড়ানোর জায়গা নেই। প্রতিবার দেখা যায়, লেখক-সম্পাদকদের মিলনমেলা ও আড্ডার অন্যতম স্থান হয়ে দাঁড়ায় লিটলম্যাগ চত্বরটি। কিন্তু এবার অনেক ঠাসাঠাসি করে স্টল বিন্যাসের কারণে সেই আড্ডায় ভাটা পড়বে বলে অনেকের শঙ্কা। আজ সোমবার মেলার চতুর্থ দিন। শুরু হবে বিকাল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

*

*

Top