Bhalukanews.com

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার সহকারী আসামী নূরুদ্দিনকে ভালুকা থেকে গ্রেফতার

ভালুকা নিউজ ডট কম; বিশেষ প্রতিনিধি: ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অন্যতম আসামি নূরুদ্দিনকে (৩০) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বেলা ১১ টার সময় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ির সিডস্টোর আমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিচয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। নুরুদ্দিন ওই মামলার দুই নম্বর আসামি। নূরুদ্দিনকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এএসএম সিরাজ উদদৌলার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্বদাতা।
প্রতক্ষদর্শী আমতলী গ্রামের শ্রমিক নেতা সফিকুল ইসলাম সফিক জানান, নুরুদ্দিন ঢাকার ক্ষিলখেত থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী গ্রামে আকবরের বাড়িতে আত্মগোপন করে। আকবরের মামীর গ্রামের বাড়ি ও আসামী নুরুদ্দিনের বাড়ি এক এলাকায় হওয়ায় সে এখানে আত্মগোপন করে।
উল্লেখ্য গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। তার বান্ধবী নিশাতকে মাদরাসার ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে একজন এসে তাকে জানায়। এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা চারজন তাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। ১০৮ ঘণ্টা আইসিইউতে থাকার পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান নুসরাত। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা।

*

*

Top