Bhalukanews.com

এমএলএম পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি জনগণ প্রতারণা মুখে

ভালুকা নিউজ ডট কম; ডেস্ক: পরিবর্তন, পরিবর্ধন কিংবা আধুনিকায়ন মানবজাতির এক আদিম প্রবৃত্তি। আর এ কারণেই মানবজাতি স্র্র্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানবজাতি আধুনিকতার প্রলেপ দিতে চায়। এই জন্যেই বিজ্ঞান আর এ জন্যেই প্রযুক্তি। যে জাতি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা আধুনিকতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়; অচিরেই সে জাতি অন্যান্য জাতির সাথে উন্নতির প্রতিযোগিতায় মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। (সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ২৭৫)। এমএলএম পদ্ধতি ব্যবসা জগতে সর্বশেষ সংস্করণ। অতীত কাল থেকেই মানবজাতির উন্নতির সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে দ্রব্যের চাহিদা এবং সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য উৎপাদন। মুদ্রা ব্যবস্থা তখনও চালু হয়নি বিধায় মানুষ তার চাহিদা পূরণ করতো দ্রব্য বিনিময়ের মাধ্যমে। তারপর চালু হয় সনাতন পদ্ধতি অর্থাৎ কড়ি দিয়ে ক্রয়-বিক্রয়। পরবর্তীতে ধাতব মুদ্রা এবং সর্বশেষে কাগজের নোট। এখন আবার ক্রেডিট কার্ড/এটিএম কার্ডের মাধ্যমেও চালু হয়েছে ক্রয়-বিক্রয়।

তবে দ্রব্য উৎপাদন এবং তা ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানোর যে সনাতন পদ্ধতি এবং এই দুইয়ের মাঝে মধ্যস¦ত্ব ভোগীদের যে বাণিজ্য তা থেকে ভোক্তাদের বেরিয়ে আসার জন্যেই ব্যবসা জগতে এই এমএলএম-এর আধুনিকায়ন। ভোক্তা আর আজীবন ভোক্তা থাকতে রাজি নয়, সেও একটি পদ্ধতির মাধ্যমে শুধু ভোক্তা না থেকে ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে চায়, ওই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই এমএলএম পদ্ধতির আবির্ভাব।

এমএলএম পদ্ধতি আধুনিক বিধায় অনেকের কাছে শুরুতেই বোধগম্য হয় না। অনেকে আবার সনাতন পদ্ধতির সুবিধাভোগী হওয়ার কারণে বুঝেও না বোঝার ভান করে। অনেকে আবার অসৎ এমএলএম নামের তথাকথিত ব্যবসায়িক কর্তৃক প্রতারিত হয়ে সকল এমএলএম কোম্পানিকেই অসৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করে থাকে। আমাদের সমাজে আবার এক ধরনের ব্যক্তি রয়েছে; যারা মাথাব্যথা হলেই মাথা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দিতে পারদর্শী। এরাই হচ্ছে সমাজের নষ্ট অংশ; যাদের দ্বারা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি দুর্নীতিবাজ এক দল মানুুষ একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতির ব্যবসাকে কাজে লাগিয়ে শত/সহস্র মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি দুর্নীতিবাজরা দায়ী- না পদ্ধতি দায়ী? এই এমএলএম/নেটওয়ার্ক মার্কেটিং/ই-কমার্স উন্নত বিশ্বে যুগ যুগ ধরে চলমান। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও চালু রয়েছে শতের উপর এ ধরনের কোম্পানি। ভারত তৃতীয় বিশ্বের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম বিশ্বে স্থান নিতে বদ্ধপরিকর। তাই পশ্চাতে উদ্ভাবিত যে কোনো আধুনিক পদ্ধতিই তারা তৎক্ষণাৎ অনুকরণ করতে ব্যস্ত থাকে। আর আমরা মাথায় ব্যথা হলে তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেই।

বাংলাদেশে এমএলএম নীতিমালাতে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, পিরামিড পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না। নিশ্চই এই নীতির পিছনে একটি অকাট্য যুক্তি থাকবে। যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ওই নীতির রচনা করেছেন তিনি বা তারা সকলেই পিরামিড পদ্ধতির সাথে ওৎপ্রতভাবে জড়িত। মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগৎ পিরামিড পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত। পিরামিডের সর্ব ঊর্ধ্বে আছেন স¦য়ং আল্লাহ পাক তিনি। তারপরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তারপর সকল নবী-রসূলগণ, তারপর ওলী-আউলিয়াগণ এবং সব শেষে আমরা আওয়ামুন নাস তথা আম জনতা। দেশ চলে পিরামিড পদ্ধতিতে- প্রথমে রাষ্ট্রপতি, তারপর প্রধানমন্ত্রী, তারপর মন্ত্রী পরিষদ, তারপর সংসদ সদস্যগণ, সবশেষে সিভিল প্রশাসন। প্রশাসনের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সর্বোচ্চ আসনে থাকেন একজন সচিব। তার নিচেই আছেন কয়েকজন অতিরিক্ত সচিব। তাদের নিচেই আছেন বেশ কিছু যুগ্ম সচিব এবং তাদের নিচেই থাকেন আরো বেশি সংখ্যক উপ-সচিব। যিনি ওই নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করেছেন তিনি স¦য়ং ওই মন্ত্রণালয়ের পিরামিডেরই একটি অংশ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন কিংবা যে কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সকলেই এই পিরামিড পদ্ধতিতে সংগঠিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এমএলএম-এর ওই পিরামিড পদ্ধতি কেন পরিবর্তন আনতে হবে? যদি তা করতেই হয়, তবে তাদের প্রস্তবিত পদ্ধতিটি কি?

সব শেষে যে বিয়ষটি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা জরুরী, তা হলো- ঢালাও মন্তব্য প্রদান। বিদেশের হাজার হাজার কোম্পানির মতো এদেশেও ‘‘আমেরিকার ফর এভার’’ এবং চীনের ‘‘তিয়েনসি’’ কোম্পানি ব্যবসা করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। কোনোই মাথাব্যথা নেই আমাদের প্রশাসনের। কারণ তারা দ্রব্য ক্রয়ের মাধ্যমেই সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। কোনো প্রকার শেয়ার, পিন কিংবা বায়বীয় কোনো লাভ প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়। কিছু এমএলএম কোম্পানি মানুষের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে এমএলএম পদ্ধতি মানেই খারাপ বলাটা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অপেশাদার সুলভ। এ ধরনের টেকনিক্যাল বিষয়ে মন্তব্য করার পূর্বে আমাদের আরো বেশি সচেতনতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া প্রয়োজন।

*

*

Top