Bhalukanews.com

মালটা চাষে সফল চাষি মনমথ্ সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিতে সম্পূর্ণ নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে যোগ হয়েছে মালটা ফলের চাষ। যে সব উচুঁ (চালা) জমি এক সময় গোচারণ ভূমি হিসাবে অনাবাদী ফেলে রাখা হতো ওই সব জমিতে এক সময় শুরু হয় নানা রকম সবজি, কলা বাগানসহ ইত্যাদির চাষ। কিন্তু মালটা চাষে সফলতা পেয়েছেন মনমথ্ সরকার নামে এক চাষি।
উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সাইনবোর্ডে লেখা পশ্চিম পাঁচগাঁও মালটা বাগান ও নার্সারী। গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের কাঁচা-পাকা মালটা, ঝুলে আছে দৃষ্টিকাড়া মনোলোভা মালটার ঝোকা। ভালুকায় মালটার আবাদ করে যিনি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন কথা হয় সেই বাগান মালিক মনমথ সরকারের সাথে। তিনি জানান, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা থেকে ভালুকায় এসেছিলেন পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকুরী করতে। ২০০৯ সালে ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামে মনমথ সরকার জমি কিনে প্রথম মালটার আবাদ শুরু করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত কিছুটা শারিরিক প্রতিবন্ধী মনমথ সরকার মালটা বাগানের তদারকি করছিলেন ঘুরে ঘুরে। তিনি জানান ২০০৯ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার আবুল কাশেম মন্ডলের কাশবন নার্সারী থেকে ৫ হাজার টাকায় একটি মালটার চারা কিনে এনে রোপণ করেন। এক বছর পর ওই গাছে ৫/৬ টি ফল আসে। ফলগুলি পাকার পর খুবই মিষ্টি হয়। এর পর তিনি শুরু করেন মালটার আবাদ। উপজেলার পাঁচগাও গ্রামে অনাবাদী ফেলে রাখা জমি কিনে তাতে শুরু করেন মালটা চাষ।

monmoth-1
ওই গ্রামের আফতাব উদ্দীন নামে এক ব্যাক্তি মনমথের সাথে ৩ বছরের জন্য ব্যবসায়িক চুক্তিতে মালটা বাগানে শ্রমিক মালিক হিসাবে দেখাশোনা ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কয়েক বছর পর তার বিশ্বস্ততার পুরষ্কার হিসেবে মনমথ সরকার খুশি হয়ে তাকে ছোট বড় মিলিয়ে ৩০০ টি মালটা গাছ বিনে পয়সায় রোপণের জন্য দেয়। বর্তমানে মনমথ সরকারের বাগানে ৪ শ’র মত বড় গাছ ও প্রায় ১৫ হাজার চারা রয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি ৩ লাখ টাকার মত মালটা বিক্রি করেছিলেন। এ বছর ফল ও চারা কিক্রি করে ৭/৮ লাখ টাকা পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। ছেলে শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স ও মেয়ে মুমিনুন্নেছা কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। বর্তমানে তিনি মালটা চাষে লাভের মুখ দেখছেন।
তিনি ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারী ওসমানী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কার ১৪২০ লাভ করেছেন। তিনি মালটার আবাদ করে নিজে লাভবান হয়েছেন পাশাপাশি আফতাব উদ্দীনের পরিবারটিকেও আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখাতে সাহায্য করেছেন। আফতাব তার বাড়ী সংলগ্ন চার পাশের ২০ কাঠা জমিতে মালটার চারা লাগিয়ে পরিচর্যা শুরু করেন। গত দুই বছর যাবত গাছে মালটা ধরা শুরু করে। এ বছর নিজস্ব ২০ কাঠা ও মনমথের বর্গা করা আরও দুটি বাগানের ২ একর জমি হতে এ পর্যন্ত ২০ মণের উপরে মালটা বিক্রি করেছেন। গাছে রয়েছে আরও ১০/১৫ মণের মত । ৪ হাজার টাকা মন দরে বাগান থেকে পাইকাররা এসে মালটা কিনে নিচ্ছেন। নতুন অবস্থায় চারা গাছে ২০ কেজি থেকে ৪০/৫০ কেজি পর্যন্ত মালটা আসে। গাছ যত বড় হয়, ডালপালা বিস্তার করে তত বেশী ফল আসবে। ফাল্গুন চৈত্র মাসে মালটার মুকুল আসে, এ সময় গাছের গোড়ায় প্রচুর পানি ও সার, কীটনাশক দিতে হয়। প্রায় নয় মাস এটি পরিপক্ক হতে সময় লাগে যে কারনে বছরে মাত্র একবার ফল পাওয়া যায়। সবগুলি গাছে যখন ফল ধরবে তখন এসব বাগান হতে শত শত মন মালটা ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত সম্ভব হবে।
এ জন্য কৃষি বিভাগ ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। আফতাব উদ্দিন জানান, এক সময় ধান, সবজি, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতেন কিন্তু তাতে লাভের চেয়ে উৎপাদন ব্যয় বেশী হওয়ায় সারা বছর অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চলতে হতো। ছেলে মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টের মধ্যেই দিন যাপন করতেন। কিন্তু গত দুই বছরে তিনি মালটাসহ বিভিন্ন জাতের আম, লিচু, পেয়ারা, কলাসহ নানা রকম ফল চাষ করে তা থেকে অর্থ রোজগার করছেন। এছাড়া এসব ফলের চারা তৈরী করে বিক্রি করছেন। নিজের উৎপাদিত মালটার কলম চারা ছোট বড় হিসেবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

*

*

Top