Bhalukanews.com

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলল

অনলাইন ডেস্ক: বহুল আলোচিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শ্রমিক নিতে প্লান্টেশন খাতে ৮-১০ হাজার কর্মীর ‘চাহিদাপত্র’ পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড বা অনলাইন পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা এবার মালয়েশিয়া যাবেন। তবে জনশক্তি রপ্তানির ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো শ্রমিকরা চুক্তিপত্রে সই করার অধিকার পাচ্ছেন বলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সব প্রস্তুতির কথা জানিয়ে গত ১২ জানুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেও দ্রুত কর্মী পাঠাতে তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপেক্ষিতে গত ১৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়া সরকারের চিঠির জবাবে বাংলাদেশও সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানানো হয়। আরও বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার যেভাবে শ্রমিক নিয়োগ করবে বাংলাদেশ সরকার তার প্রতি শতভাগ আস্থা রাখবে।

তবে এবার মালয়েশিয়া সরকার শতভাগ অনলাইনের সহায়তায় কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে। মালয়েশিয়ার চাহিদাপত্রে বলা হয়, প্রতিটি কর্মীর জন্য প্রাথমিকভাবে ৩ বছর কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা টানা ১০ বছর পর্যন্ত নবায়ন হবে। কর্মীর দৈনিক কর্মঘণ্টা হবে ৮ ঘণ্টা, তবে ওভারটাইমের সুযোগ রয়েছে। যা মালয়েশিয়া সরকারের শ্রম আইন অনুযায়ী চলবে। চুক্তিপত্রে কর্মীদের মাসিক বেতন যা উল্লেখ থাকবে তাই-ই দেওয়া হবে। ওভারটাইমের হিসাবও কম্পিউটারে উঠবে। এতে কম্পিউটারে তার মাসিক যে বেতন উঠবে সে তাই পাবে। কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা বেতন কম দিতে গেলে কম্পিউটার ক্লিক করবে না।

কর্মীর সমুদয় বেতনের টাকা হাতে নয়, বরং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং দুই দেশের সরকারের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা চলে যাবে। সবকিছু অনলাইনে হওয়ায় এবার ছলচাতুরির কোনো সুযোগ থাকবে না। দুই দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা অনলাইনের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে মালয়েশিয়ায়। কর্মীর বায়োমেট্রিক পরীক্ষার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেস করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ পদ্ধতিতে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মীর নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন এ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের কারিগরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে মালয়েশিয়ার সিনারফ্লাক্স ও বেস্টিনেট নামে দুটি কোম্পানি।

ইতোমধ্যেই কোম্পানি দুটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মোট ১২টি ধাপ অনুসরণ করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হবে। অনলাইন প্রক্রিয়ায় কর্মী নেওয়া শুরু হলে জালিয়াতি আর অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না। এতে অভিবাসন ব্যয় কমে যাওয়ার পাশপাশি মালয়েশিয়ায় এসে কর্মীরা কাজের নিরাপত্তা, বিমা সুবিধাসহ আইএলওর সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ রেখে ঢাকায় ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। কিন্তু প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়া ফিরে গিয়ে চুক্তির পরের দিনই এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সকল বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ ঘোষণা করে। এসময় প্লান্টেশন, এগ্রিকালচার, ম্যানুফাকচারিং, কনস্ট্রাকশনসহ ৫টি খাতে বিপুল কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার।

কিন্তু শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু নিবন্ধন করা প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশি। এতে চোরাই ও নৌ পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই আটকা পড়েন, কেউ কেউ মারা যান আবার অনেকে নদীতে ভাসতেও থাকেন বলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হতে থাকে। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায়ও দালালচক্রের থাবা রয়েছে। মোটা অংকের টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় এসে চাকরি পাওয়া তো দূরের কথা অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে বনে-জঙ্গলে, ব্রিজের নিচে ও ফুটপাতে।

এসব প্রতারণার কারণে দেশের অন্যতম এ শ্রমবাজারটি কয়েকবার বন্ধও হয়েছে। এতে বিব্রত হয় মালয়েশিয়া সরকার। এরপর বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আবার খুলে দেওয়া হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জাবেদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মালয়েশিয়ায় আমাদের হাইকমিশনে চাহিদাপত্র এসেছে বলে শুনেছি। এটির ফলে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেল। চাহিদাপত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, শুনেছি ৫-৬ হাজার এসেছে।

তবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৮-১০ হাজার চাহিদাপত্র এসেছে। যাদের অনলাইনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে তাদের ফ্লাইট হতে পারে।

*

*

Top