শিরোনামহীন

চিত্রনায়িকা দিতির দাফন সম্পন্ন

নারায়নগঞ্জ সংবাদদাতা: জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতি। সোমবার দুপুর পৌনে ২টার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দত্তরপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে দত্তরপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের মাঠে তার শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দিতির মামা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে ঢাকার এফডিসি ও গুলশানে নামাজে জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়িতে করে দুপুর সাড়ে ১২টায় দিতির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের আগে মরদেহ দত্তরপাড়া জামে মসজিদের মাঠে আনা হয়।

প্রিয় অভিনেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে তার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকার শত অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় জমান। এ সময় দিতির পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গতকাল রোববার (২০ মার্চ) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি।

১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি অসুস্থ হয়ে পড়েন দিতি। তখন পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর ওই বছরের ২৫ জুলাই ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন দিতি। চেন্নাই থেকে ফেরার পর বাসায় ছিলেন তিনি।

মস্তিস্কে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় দফায় ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন আশির দশকের নায়িকা পারভীন সুলতানা দিতি। কিন্তু সেখানে তার চিকিৎসকরা আশা জাগানোর মতো কিছু করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে দিতিকে দেশে নিয়ে আসা হয় গত জানুয়ারিতে। দেশে ফেরার পরপরই তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে।

তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ডাক দিয়ে যাই’। উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আমিই ওস্তাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু। এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন।

সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে দিতি আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতেই অভিনয় করে দিতি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত দিতি ছোট পর্দার বেশ কিছু একক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন । এ ছাড়া তিনি রান্না বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন।

দিতির উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: হীরামতি, দুই জীবন, ভাই বন্ধু, উছিলা, লেডি ইন্সপেক্টর, খুনের বদলা, আজকের হাঙ্গামা, স্নেহের প্রতিদান (১৯৯৯), শেষ উপহার, চরম আঘাত, স্বামী-স্ত্রী, অপরাধী, কালিয়া, কাল সকালে(২০০৫), মেঘের কোলে রোদ(২০০৮), আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮), মুক্তি (২০১৪), কঠিন প্রতিশোধ (২০১৪), জোনাকির আলো (২০১৪), তবুও, ভালোবাসি (২০১৩), পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী (২০১৩), হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ (২০১১), মাটির ঠিকানা (২০১১), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭), দূর্জয় (১৯৯৬), সুইট হার্ট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button