সারা ভালুকাহবিরবাড়ি

ভালুকায় শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন; তোপের মুখে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক

ভালুকা নিউজ ডট কম: বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক পূনঃরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসছেন এমন সংবাদ প্রচার হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে দ্বিতীয় দিনেও আন্দোলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আজ সকালে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া আব্দুল গণিমাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এই আন্দোলন চলে।

সকাল ৯টা থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে আসে। এ সময় তারা নানা শ্লোগান দিয়ে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমানের হাত থেকে বাঁচার আকুতি প্রকাশ করে।

এর আগে গতকাল ২৮ মে শনিবার উক্ত প্রধান শিক্ষক পুনরায় স্কুলে যোগদান করতে আসছেন এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় এসে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ‘প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে চায় না’ সকল ছাত্র ছাত্রীদের দাবি একটাই, আফজালের হাত থেকে বাঁচতে চাই’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে বেগতিক দেখে কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ক্লাশ ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অর্থ আত্মসাৎ ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমানকে ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই তারিখে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বহিস্কার করে। প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান উক্ত বহিস্কারের প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত ৬ মাসের জন্য বহিস্কারাদেশ স্থগিত করে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেয়। এ নির্দেশ নিয়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান থানা পুলিশ ও শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর তোপের মুখে ব্যার্থ হন। ওই ঘটনার পর বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোখলেছুর রহমানকে নিয়োগ দেয় কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ২০০৬ সাল থেকে দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান এর বিরোদ্ধে এ পর্যন্ত চেক জালিয়াতি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ নারী কেলেংকারীর মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বহিস্কার করে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ এই শিক্ষককে চায়না বলে তারা আন্দোলন করছে।

এ ব্যাপারে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান জানান, আমি বৈধ শিক্ষক, হাইকোর্ট আমার প্রতি রায় দিয়েছে সুতরাং আমি প্রশাসনের সহয়তায় আমার স্বকর্মস্থলে যোগদান করবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button