শিরোনামহীন

এফডিসিতে ফরিদ আলীকে শেষ শ্রদ্ধা

ভালুকা নিউজ ডট কম; ডেস্ক: জীবনের মায়া কাটিয়ে গতকাল সোমবার (২২ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলী। তার মরদেহ আজ মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিয়ে আসা হয় বিএফডিসিতে।

শেষবারের মতো ঘুরে গেলেন তিনি নিজের প্রিয় কর্মস্থল। এখানে এর আগেও বহুবার তিনি এসেছেন জীবিকার টানে। তবে আর কখনোই আসা হবে না। জীবন-জীবিকা; সব কিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছেন তিনি।

এফডিসিতে ফরিদ আলীর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, অভিনয়ের আঙিনার অনেক প্রিয়মুখ। সবাই ফরিদ আলীকে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন।

এখানে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর বনানী কবর স্থানে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বাংলা টেলিভিশনের প্রথম নাটকের অভিনেতা। এর আগে আজ সকালে চ্যানেল আই চত্বরে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

Farid-ali

প্রসঙ্গত, গতকাল বিকাল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদ আলী। অনেকদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউতে রাখা হয়েছিল। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কাদের আখন্দের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ফরিদ আলীর ছোট ছেলে জানান, গত ১৯ আগস্ট ফরিদ আলী ও স্ত্রী মনোয়ারা দম্পতির ৪১তম বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছিল। এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করায় তাকে ওয়ারী বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ওই দিনই সেখানে ভর্তি করা হয়।

Farid-ali

কয়েক মাস আগে ফরিদ আলীর চিকিৎসার জন্য পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাডেমিক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর না হয়েও তিনি অভিনয় জগতে দেখিয়েছেন পারদর্শিতা। কৌতুক অভিনয়ে তার উপস্থিতি আজো দর্শকমনে দাগ কেটে যায়। বিশেষ করে ‘টাকা দেন দুবাই যাব, বাংলাদেশে থাকব না’- এই সংলাপটির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম।

শুধু অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই শিল্পী।

Farid-ali

১৯৬২ সালে শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে একটি মাত্র নারী চরিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন ফরিদ আলী। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম টিভিতে দৃশ্যমান হন। তার নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক ‘নবজন্ম’। অভিনেতা ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে পদার্পণ ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ সিনেমার মাধ্যমে। তখন থেকে একাধারে বহু সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জীবন তৃষ্ণা, স্লোগান, চান্দা, দাগ, অধিকার ইত্যাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button