উপ-সম্পাদকীয়বিভিন্ন দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস 

 

শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। শিক্ষকরা আমাদের,আমাদের সন্তানের জীবন গড়ার কারিগড়। শিক্ষরা আমাদের শেখান আমরা শিখি।আর এ শেখা আমরা প্রতিদিন শিখি।ইচ্ছায় শিখি অনিচ্ছায় শিখি।শিক্ষার যেমন শেষ নেই তেমনি শিক্ষকের মর্যাদারও সীমা নেই।একজন শিক্ষক আমাদের, মানে শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার কারিগড়।মা-বাবা সন্তানের জন্মদাতা হলেও শিক্ষক তার জীবন আশীর্বাদ হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করেন পরম মমতায়।

শিশু বয়স থেকে আমাদের শিক্ষার হাতেখড়ি মা-বাবার হাত ধরে হলেও শিক্ষকের সান্যিধ্য ছাড়া শিক্ষার্থীর জীবন অপুর্ণ। আমাদের বাবা-মা-ই আমাদের প্রথম শিক্ষা গুরু,আমাদেরকে মানুষ করে গড়ে তোলা অন্যতম শিক্ষক।আমাদের দায়বদ্ধতা,আমাদের বিশ্বাস,আমাদের বর্তমান-ভবিষ্যত,ভালো-মন্দ,উচিত-অনুচিত, চরিত্র গঠন,পছন্দ-অপছন্দ,সম্মানবোধসহ সমস্ত কিছুই শিখি পরিবরের গুরুজন,অভিভাবকদের কাছ থেকেই। আমাদের বড় হয়ে উঠা,আমাদের জীবনগঠন,আমাদের সফলতা সব কিছুই মা-বাবা আর বড়োদের কাছ থেকেই।অার এই জীবন গঠনের জন্য একাডেমিক স্তর পেড়িয়ে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মাফিক আমাদেরকে বিদ্যালয় ও বিশ্ব বিদ্যালয়ে পা রাখতে হয় শিক্ষা গ্রহন করার জন্য।সেখানে যে মহান মানুষগুলো আমাদের পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে জ্ঞাণের আলোয় আমাদের জীবনকে আলোকিত করেন সেই সম্মানিত ব্যাক্তিগন আমাদের শিক্ষাগুরু-শিক্ষক।আমাদের জীবনে তাঁদের গুরুত্ব অপরিসীম।সৎ নাগরিক তথা মানুষ গড়ার কারিগর তাঁরাই।

৫ অক্টোবর বিশ্ব ‘শিক্ষক দিবস’। বিশ্বের অগণিত শিক্ষকদের আদর্শগত মহান কর্মকাণ্ডের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের পেশাগত অবদানকে শ্রদ্ধায় স্বরণ করার জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিশ্ব শিক্ষক পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।‘ইউনিসেফ থেকে,৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

“বিশ্বের সর্বমোট ১৯টি দেশে অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ ‘টিচার্স ডে’ পালিত হয়। দেশগুলি হল—কানাডা, জার্মানি, বুলগেরিয়া, আর্জাবাইজান, ইস্তোনিয়া, লিথোনিয়া, ম্যাকেডোনিয়া, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কুয়েত, কাতার, রাশিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ইংল্যান্ড, মাউরেটিয়াস, মালদোভা । আবার বিশ্বের অন্য ১১টি দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস চালু। দেশগুলি হল মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া, লিবিয়া, ইজিপ্ট, জর্ডান, সৌদিআরব, ইয়েমেন, বাহরাইন, ইউ এ ই, ওমান। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ইউনেস্কোর ঘোষনায় ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ দিনটির যাত্রা শুরু।”এছাড়াও প্রায় ১০০টি দেশে এ দিবস পালিত হয়।

শিক্ষক দিবস আমাদের কাছে মহান দিবস হিসেবে শিক্ষকের প্রতি সম্মানবোধকে জাগ্রত করে।তাঁদের আদর্শকে আমাদের জীবন চলার পাথেয় হিসেবে গ্রহন করা।গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল সে কারণেই বলেছেন—‘‘যাঁরা শিশুদের শিক্ষাদানে ব্রতী তাঁরা অবিভাবকদের থেকেও অধিক সম্মাননীয়। পিতামাতা আমাদের জীবনদান করেন ঠিকই। শিক্ষকরা সেই জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।আর এ কারনেই মা-বাবার মতো বা কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কতর্ব্য।-(তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট,ইউকিপিডিয়া)

#

সফিউল্লাহ আনসারী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button