ভালুকায় ১০ টাকা মূল্যের চাল বিতরণে অনিয়ম

বিশেষ প্রতিনিধি: ভালুকা উপজেলায় ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে হ–য–ব–র–ল অবস্থা বিরাজ করছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে গত দুই মাসে ১১ ইউনিয়নের মাঝে মাত্র ৫ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তার মধ্যেই লক্ষ্য করা যায় নানা অসঙ্গতি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা খাদ্য অফিসে সঠিক কোন হিসেব, নেই কোন পরিসংখ্যান।ফলে ১১ ইউনিয়নের মাঝে ৬ ইউনিয়নে এখনো পর্যন্ত চাল বিতরণ হয়নি, এতে দু’মাসে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ হাজার পরিবার এ চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ইতিমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে চালসহ এক ডিলার গ্রেফতার হন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ডিলার গ্রেফতারের পাশাপাশি রহস্যজনক কারণে খাদ্য কর্মকর্তাকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর অপর এক ডিলার চাল বিতরণে অপরগতা প্রকাশ করে অব্যাহতি নিয়েছেন।
বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি করে চাল বিতরণ গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম থেকে উদ্বোধন করেন। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল এই ৫ মাস এ চাল বিতরণ করার কথা। ভালুকা উপজেলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর এ চাল বিতরণ শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত উপজেলার ৬ ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়ন করতে পারেনি।
উপজেলার উথুরা, মেদুয়ারী, বিরুনীয়া, ভালুকা সদর (আংশিক) ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নে পাঁচ ইউনিয়নে গত সেপ্টেম্বর মাসে ২শত ৩৩ মেট্রিক টন সহ এ পর্যন্ত মোট ৩শত৬১টন চালের বিতরণ করা হয়। এ সপ্তাহে শুক্র, শনি ও বুধবার ইউনিয়নের দুই স্থান থেকে এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চাল বিতরণ নিয়ে বর্তমানে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কার্যালয়ে হ–য–ব–র–ল অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সঠিক কোন তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মোট কতজন সুবিধা ভোগি রয়েছেন বা ১১ ইউনিয়নে নিয়োগকৃত ডিলাদের কি নাম বা অদ্যাবধি কত টন চাল বিতরণ করা হয়েছে তার কোন তথ্যই দিতে পারেননি তিনি।
মোট ৫ মাসের মাঝে চলতি মাসসহ গত দুই মাসে ভরাডোবা, ধীতপূর, মল্লিকবাড়ি, কাচিনা, হবিরবাড়ি ও রাজৈ ইউনিয়নের আনুমানিক ২০ থেকে ২২ হাজার পরিবার এ চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইতোমধ্যেই অনিয়মের অভিযোগে মেদুয়ারী ইউনিয়নের ডিলার ফজলুল হককে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সদ্য বিদায়ী খাদ্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ছিলেন বলে জেল থেকে জামিনে এসে ডিলার ফজলুল হক অভিযোগ করেন। তিনি এ ব্যাপারে ওই খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয়ে যাবেন বলে জানান। এদিকে ডিলার গ্রেফতার হওয়ার পর ৬ নম্বর ভালুকা সদর ইউনিয়নের জনৈক ডিলার চাল বিতরণে অপারগতা প্রকাশ করে অব্যাহতিপত্র প্রদান করেছেন।
কাচিনা ইউনিয়নের সচিব আমজাদ হোসেন জানান, চাল উত্তোলন বা বিতরণ সবই ডিলারগণ জানেন। আমি কিছুই বলতে পারবো না।
কাচিনা ইউনিয়নের ডিলার মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, গত মাসে চাল বিতরণ হলেও এই মাসে ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি না পাওয়ায় ১৯ অক্টোবর চাল উত্তোলন করেও তা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
১ নম্বর উথুরা ইউনিয়নের ডিলার খোকন মিয়া জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যগণ তালিকার জন্য মানুষের কাছে গেলে ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড চাইলে ভয়ে তারা ছবি ও আইডি কার্ড দেন না। যে কারণে তালিকা প্রনয়নে বিলম্ব হচ্ছে।
চাল বিতরণ না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ৭ নম্বর মল্লিকবাড়ি ইউয়িনের চেয়ারম্যান আকরাম হোসাইন বলেন, তালিকা প্রনয়নের দায়িত্ব হলো ইউয়িনর কমিটির সভাপতি (ট্যাগ অফিসার) ও সদস্য সচিবের (ইউনিয়নের সচিব) আমি হলাম ওই কমিটির একজন সাধারণ সদস্য। কেন তালিকা প্রনয়ন হয়নি সেটা সভাপতি ও সচিবই ভাল জানেন। তবে এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, আমার দায়িত্ব হলো তলিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে চাল বরাদ্দ দেয়া।তালিকা প্রয়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের। ছয় ইউনিয়নের চূড়ান্ত তলিকা এখনো পর্যন্ত হাতে পাইনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল আহসান তালুকদার জানান, নির্ধারিত সময়ে ডিলার নিয়োগ ও তালিকা করতে না পারায় উপজেলার ৫ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা গেলেও ৬ টি ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অচিরেই তালিকা চুড়ান্ত করে ১ নভেম্বর থেকে চাল বিতরণ শুরু করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাল গোদামেই আছে, গত দুই মাস যারা চাল পাননি, তাদেরকেও ওই চাল দেয়া হবে।