বিভাগীয় খবররংপুর

ডিমলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীর্তির অভিযোগ

 
মহা পরিচালকের পদায়ন মিথ্যা  দাবি করে জোরপূবক সাক্ষর নেয়ার অভিযোগ
 

নীলফামারী প্রতিনিধি ॥  নীলফামারীর ডিমলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূনীর্তির অভিযোগ উঠেছে। উক্ত অফিসের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের পদায়নকে ভুয়া অখ্যায়িত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ফেরদৌসী বেগমের পদায়ন দেয়ার পর জোর করে রবিবার বিকালে স্বাক্ষর করে নেয়া হয়েছে। উক্ত কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম ডিমলা অফিসে ডেকে এনে জোরর্পুবক স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন মহা-পরিচালকের পদন্নতি আদেশ ভুয়া বলে রোববারে অনুষ্টিত পরিবার পরিকল্পনা অফিসের মাসিক সভায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মহা পরিচালকের স্মারক নং-পপঅ/প্রশা-১/ঋডঅ-ঋচও/পদায়ন-৩৪৪/২০১৬/২৫৬ তাং-২৩/০৭/১৭ইং মোতাবেক ৭৪জনকে পরিবার কল্যান সহকারী থেকে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে স্ববেতনে পদায়ন করেন। এর  মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পরিবার কল্যান সহকারী ফেরদৌসী বেগমকে বালাপাড়া ইউনিয়নের (শূন্য ইউনিয়ন) পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে স্ববেতনে পদায়নের আদেশ জারী করা হয়। কিন্তু ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা মকবুল হোসেন বিষয়টি মিথ্যা বলে উক্ত মাঠকর্মীর নিকট জোরপুর্বক স্বাক্ষর নেয়।
্উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে রংপুরে থাকার অভিযোগ করেছে একাধিক কর্মচারীরা। সপ্তাহের ২/৩ দিন অফিস আসলেও দুপুর ২টা মধ্যে মাঠকাজ পরিদর্শনের নামে তিনি রংপুর চলে যান।
মকবুল হোসেন নীলফামারী সদর থেকে গত ২০১১ সালের ৩ আগষ্ট ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগমের আশির্বাদ পুষ্ট হওয়ায় এই কর্মকর্তা ডিমলায় যোগদানের পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানী ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এমনকি মহা পরিচালকের স্বাক্ষরিত পদায়নকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে মাঠ কর্মীকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহন করিয়াছেন।
উপজেলা বালাপাড়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ফেরদৌসী বেগম বিষয়টি সোমবার (৫ জুন) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগে হয়রানীর বিচার চেয়ে আবেদন করেন। ফেরদৌসী বেগম বলেন, গত রোববার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার মাসিক সভায় উপজেলা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জোরপূর্বক আমার নিকট স্বাক্ষর দেন।
এ ছাড়াও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন অধিনস্থদের লাম্প গ্রান্ড বিল, গৃহ নির্মাণ লোন, পেনসন ও আনুতোষিক, জিপিএফ, শ্রান্তিবিনোদন ও গৃহ নির্মান অগ্রীম লোন ফাইল আটক করে মাঠকর্মিদের বিরম্বনায় ফেলেন । এক পর্যায়ে অধিনস্থরা ধর্না দিতে দিতে অতিষ্ট হয়ে তার অনৈতিক দাবীর কাছে নতিস্বীকার করেন। অবশেষে রফাদফা হলেই সই হয় ফাইল ভুক্তভোগীরা পেয়ে যান কাঙ্খিত টাকা। পকেট ভারী হয় মকবুল হোসেনের।
ডিমলায় অবস্থানের জন্য বাসা ভাড়া নিলেও তিনি সেখাসে অবস্থান করেন না। রংপুর থেকে তিনি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুই/তিন কার্যদিবস কর্মস্থলে আসেন।
এ ব্যাপারে মকবুল হোসেনের বলেন, ফেরদৌসী বেগম পদায়ন করা হলেও সে স্বপদে থাকার আবেদন করায় উদ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। জোরপূর্বক স্বাক্ষর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একাধিক বার চেষ্টা করেও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। 

 

 

 

#মহিনুল ইসলাম সুজন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button