জাতীয়

পাহাড় ধসে সেনা সদস্যসহ নিহত ৮৭

ভালুকানিউজ ডটকম,ডেস্ক: চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় সোমবার দিবাগত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে সেনা সদস্যসহ ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম : জেলার চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ চৌধুরী পাহাড় ধসে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।

একই এলাকার ছনবুনিয়া উপজাতি পাড়ায় একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা, মেমাউ ও গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং নিহত হন।

চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাখায়াত হোসেন বলেন, ধোপাছড়ি এলাকাতে পাহাড় ধসে চারজনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন। কিন্তু তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না। ইউনিয়নটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা অনেকটা বিচ্ছিন্ন এলাকা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলী শাহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে ধস ও বন্যায় নিহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। একই সঙ্গে অতি বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দুর্গম জঙ্গল বগাবিলি এলাকায় পাহাড় ধসে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। প্রায় একই সময়ে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাইছড়ি মঈন্যারটেকে ধসে সাতজন মারা যান। একই ইউনিয়নের পাহাড়তলী ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন চারজন।

উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া, চন্দ্রঘোনা, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগর, বেতাগী, কোদালা, সরফভাটা, শিলক, হোসনাবাদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় দুই শতাধিক গ্রামের কয়েকশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাঙামাটি : জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানান, জেলায় বিভিন্নস্থানে ধসে এখনো পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে।

তিনি জানান, এর মধ্যে সদর উপজেলায় চার সেনা সদস্যসহ ২১ জন মারা গেছেন। কাপ্তাই উপজেলায় মারা গেছেন ১৩ জন। কাউখালী উপজেলায় ২২ জন এবং বিলাইছড়ি উপজেলায় মারা গেছেন দুইজন।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ১১ জনের লাশ এসেছে। বিভিন্ন স্থানে ঘরের ওপর পাহাড় ধসে তারা নিহত হয়েছেন।

একই সময়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় মাটিচাপা পড়ে উনু চিং মারমা ও নিকি মারমা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছায়ামং মারমা।

এ ছাড়া কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী (বেবী) এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সকালে মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার দিনমজুর নুরনবীর বসতঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে নুরনবীসহ চারজন মাটি চাপা পড়েন। এ সময় তিনজন মারা যান ও একজন আহত হন। নিহতরা হলেন- নুরনবী (৫৫), নুরুনবীর পুত্রবধূ রুবি এবং নাতি রোহান।

কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গাছ চাপা পড়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং ইকবাল নামের এক ব্যক্তি কর্ণফুলি নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

বান্দরবান : বান্দরবান শহরের বালাঘাটা, লেমুঝিড়িপাড়া ও আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন পাঁচজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটা পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে। ঘটনার সময় হতাহতরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ পাহাড় ধসে ঘরের ওপর পড়লে চাপা পড়ে রেবা ত্রিপুরা মারা যান।

রাতে শহরের লেমুঝিড়িপাড়া ও আগাপাড়ায় অনুরূপভাবে পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত ও চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার স্বপন কুমার বোস বলেন, ঘটনার পর তারা মাটির নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button